ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৭ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৪ ১৪৩৩ || ১৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

যমজ বোনের বাবা ভিন্ন: সত্য জানার পর যা হলো

অন্য দুনিয়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৫০, ৭ মে ২০২৬   আপডেট: ১০:৫২, ৭ মে ২০২৬
যমজ বোনের বাবা ভিন্ন: সত্য জানার পর যা হলো

ছবি: দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া

যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা মিশেল ও লাভিনিয়া অসবোর্ন—দুই যমজ বোন। জন্ম থেকে একসঙ্গে বড় হওয়া, জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে একে অপরের পাশে থাকা এই দুই বোন কখনো কল্পনাও করেননি যে তাদের সম্পর্ক নিয়ে একদিন এমন এক সত্য সামনে আসবে, যা বদলে দেবে পুরো জীবন।

১৯৭৬ সালে নটিংহামে তাদের জন্ম হয়। তখন তাদের মা ছিলেন মাত্র ১৯ বছরের এক তরুণী। দুই বোনের শৈশব ছিল অনিশ্চয়তা ও কষ্টে ভরা।বারবার বাসা বদল, দীর্ঘ সময় অনাথ আশ্রমে থাকা এবং মায়ের অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে তাদের জীবন ছিল অস্থির। ছোটবেলা থেকেই তারা একে অপরের ওপর নির্ভর করত। লাভিনিয়া বলেন, “পৃথিবীর সবকিছুর বিপরীতে আমরা ছিলাম একে অপরের সঙ্গী।” তাদের মা সবসময় বলতেন, ‘জেমস’ নামের এক ব্যক্তি তাদের বাবা। কিন্তু মিশেলের মনে দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ ছিল।
 ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে একটি ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল তাদের জীবনে নিয়ে আসে চরম বিস্ময়। পরীক্ষায় জানা যায়, তারা যমজ হলেও তাদের জৈবিক বাবা আলাদা। অর্থাৎ, তারা একই মায়ের সন্তান হলেও পুরোপুরি আপন বোন নয়; বরং হাফ-সিস্টার বা সৎবোন।

আরো পড়ুন:

বিরল জৈবিক ঘটনা: চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল ঘটনাকে বলা হয় ‘হেটেরোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন’। এটি ঘটে তখন, যখন একজন নারী একই ঋতুচক্রে একাধিক ডিম্বাণু উৎপাদন করেন এবং ভিন্ন ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা সেগুলো নিষিক্ত হয়। পরে সেই ভ্রূণগুলো একইসঙ্গে গর্ভে বেড়ে ওঠে। বিশ্বজুড়ে এমন ঘটনার সংখ্যা অত্যন্ত কম। এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ২০টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। বিবিসি রেডিও ৪–এর অনুসন্ধান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে এটিই প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা।

ডিএনএ রিপোর্ট দেখে আতঙ্ক: লাভিনিয়া জানান, ইমেইলে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল দেখার সময় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। কারণ, তার কাছে মিশেল শুধু বোনই ছিলেন না, ছিলেন জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষ। তিনি বলেন, “সে ছিল আমার একমাত্র আপন মানুষ। কিন্তু হঠাৎ মনে হলো সবকিছু বদলে গেছে।”

অন্যদিকে মিশেলের প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন। তিনি বলেন, “আমি খুব একটা অবাক হইনি। তবে এমন ঘটনা যে সত্যিই ঘটতে পারে, সেটাই অবিশ্বাস্য।”

২০২১ সালের শেষ দিকে তাদের মা স্মৃতিভ্রমজনিত রোগে আক্রান্ত হন। ফলে অতীত নিয়ে আর কোনো উত্তর পাওয়া সম্ভব ছিল না। এরপর মিশেল নিজেই একটি ডিএনএ কিট কিনে পরীক্ষা করান। ফলাফল আসে ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি—যেদিন তাদের মা মারা যান।

সেই রিপোর্টে জানা যায়, জেমস আসলে মিশেলের জৈবিক বাবা নন। পরে অনুসন্ধান চালিয়ে মিশেল জানতে পারেন, তার প্রকৃত বাবার নাম অ্যালেক্স।

পরে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, লাভিনিয়ার জৈবিক বাবার নাম আর্থার। দুই বোন তার সঙ্গে দেখা করতে যান পশ্চিম লন্ডনে। লাভিনিয়া বলেন, “তিনি কিছুটা নার্ভাস ছিলেন, কিন্তু তাকে আমার মতোই প্রাণবন্ত মনে হয়েছিল।”

এরপর ধীরে ধীরে আর্থারের সঙ্গে লাভিনিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাসে কয়েকবার তাদের দেখা হয়। এমনকি আর্থার মিশেলকেও বলেছেন, চাইলে তিনিও তাকে ‘বাবা’ বলে ডাকতে পারেন।

ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেছে, তারা পুরোপুরি আপন যমজ নয়। কিন্তু তাতে তাদের সম্পর্কের গভীরতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। লাভিনিয়া বলেন, “আমরা এক অলৌকিক সৃষ্টি। আমাদের বন্ধন কখনো ভাঙবে না।”

আর মিশেলের ভাষাও এমন। তিনি বলেন, “সে আমার যমজ বোন। এর চেয়ে বড় সত্য আর কিছু নেই।”

ঢাকা/লিপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়