ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৭ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৪ ১৪৩৩ || ১৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সুন্দরবনে ২২ জেলে অপহৃত, মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেলেন ৫ জন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:২৬, ৭ মে ২০২৬   আপডেট: ১০:২৭, ৭ মে ২০২৬
সুন্দরবনে ২২ জেলে অপহৃত, মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেলেন ৫ জন

ফাইল ফটো

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে জলদস্যু আলিম ও নানাভাই বাহিনীর হাতে ২২ জেলে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মুক্তিপণের টাকা দিয়ে ৫ জেলে ফিরে এসেছেন। বাকি ১৭ জেলে জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরো পড়ুন:

রবিবার (৩ মে) সকাল থেকে সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত সুন্দরবনের চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদীর আগা, চালতেবাড়িয়া, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল এলাকা থেকে জেলেদের অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, অপহৃত জেলেরা শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে মারধরের পর মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দিলেও বাকি ১৭ জনকে এখনো জিম্মি করে রেখেছে অপহরণকারীরা।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, অপহৃত জেলেরা কয়েকদিন আগে কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া শিকারে যান। বিভিন্ন খালে কাজ করার সময় আলিম ও নানাভাই বাহিনীর সদস্যরা তাদের অপহরণ করে।

জিম্মি থাকাতের মধ্যে রয়েছেন- মোমিন ফকির, মুর্শিদ আলম, ইসমাইল শেখ, আব্দুল করিম, আব্দুস সামাদ, আল মামুন, রবিউল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, সঞ্জয়, আলআমিনসহ ১৭ জন জেলে।

ফিরে আসা জেলেরা জানান, অপহরণের সময় তাদের মারধর করা হয় এবং এখনো অনেক জেলে জিম্মি অবস্থায় আছেন। তারা জানান, একের পর এক দস্যুরা জেলেদের অপহরণ করে চলেছে। এতে পুরো উপকূল এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

অপহৃতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, এখনো মুক্তিপণের কোনো নির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়নি। তারা দ্রুত প্রিয়জনদের উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। কোস্টগার্ডকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” অপহরণের বিষয়টি জেলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি বলেও জানান তিনি।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, এখনো ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা/শাহীন/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়