যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের পর প্রথম চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বুধবার (৬ মে) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই তার প্রথম চীন সফর। খবর ইকোনোমিক টাইমসের।
চীনের সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, বুধবার বেইজিংয়ে আরাঘচি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ জানিয়েছে, এই সফরে আরাঘচি চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ছাড়াও বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অন্তত তিনবার ফোনে কথা বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের আয়ের পথ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, ওয়াশিংটনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চীন ইরানের তেলের প্রধান গ্রাহক হিসেবে রয়ে গেছে।
আল-জাজিরার বেইজিং প্রতিনিধি ক্যাটরিনা ইউ-এর মতে, এই বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি প্রধান বিষয়- যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চীন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সোচ্চার হলেও, একই সঙ্গে তারা ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধেরও সমালোচনা করেছে।
আরাঘচির এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন আগামী ১৪-১৫ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চীনকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ইরানকে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে চাপ দেয়।
রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আশা করি চীন আরাঘচিকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেবে যে, এই জলপথ অবরুদ্ধ করে রাখা ইরানকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে তেহরান নিশ্চিত হতে চাচ্ছে যে তারা যদি হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়, তাহলে বিনিময়ে বেইজিংয়ের কাছ থেকে কী ধরনের সমর্থন পাবে। বিশেষ করে জাতিসংঘে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব এলে চীন আগের মতোই ভেটো দিয়ে পাশে থাকবে কি না, তা নিশ্চিত হতে চায় তেহরান।
ঢাকা/ফিরোজ
হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত ঘোষণা ট্রাম্পের