ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৫ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২২ ১৪৩৩ || ১৮ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

তিন বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি কুবির ইআরপি প্রকল্প

এমদাদুল হক, কুবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৪৪, ৫ মে ২০২৬  
তিন বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি কুবির ইআরপি প্রকল্প

অর্ধকোটির বেশি টাকা অগ্রিম পরিশোধের পরও স্থবির হয়ে আছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) প্রকল্প। এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন বছর পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম, গবেষণা, অ্যাক্রিডিটেশন প্রক্রিয়া ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নানা ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ জুন প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ড্যাফোডিল জাপান আইটি লিমিটেডকে। ইতোমধ্যে ৫২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া, ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকায় সার্ভার কেনা হয়েছে ইকোনমিক সাপোর্ট থেকে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুল হাছানকে আহ্বায়ক এবং আইসিটি সেলের সিনিয়র প্রোগ্রামার মো. নাসির উদ্দীনকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্যের একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়।

তবে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এখনো অ্যানালগ পদ্ধতিতেই সেমিস্টার ফি জমা, ফলাফল দেখা, সার্টিফিকেট উত্তোলনসহ বিভিন্ন কাজ করতে হচ্ছে। একইভাবে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ব্যবস্থাপনাতেও জটিলতা রয়ে গেছে। অথচ প্রকল্পটি চালু হলে শিক্ষার্থীরা যেকোনো স্থান থেকে অনলাইনে ফি জমা দিতে পারত এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমও সহজ হতো।

এই ভোগান্তি নিয়ে আইন বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দিলোয়ার হোসেন বলেন, “ডিজিটাল যুগে এসেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যানালগ পদ্ধতিতে চলছে। সেমিস্টার ফি জমা দেওয়া থেকে শুরু করে রেজাল্ট দেখা ও সার্টিফিকেট উত্তোলন, সব ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে, এটা ভালো। তবে, এতদিনেও প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়াটা হতাশাজনক। কার গাফিলতি আছে তা খুঁজে বের করে দ্রুত প্রকল্পটি চালু করা উচিত।”

এ বিষয়ে তদারকি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহমুদুল হাছান বলেন, “আমরা মূলত কাজের অগ্রগতি তদারকি করার দায়িত্বে ছিলাম। কাজ শেষ হতে দেরি হওয়ার কারণ সম্পর্কে আমার স্পষ্ট ধারণা নেই।”

তবে, এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তদারকি কমিটির সদস্য সচিব মো. নাসির উদ্দীন।

অন্যদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রোগ্রামার রিয়াজ আহমেদ দাবি করেন, “আমরা প্রায় এক বছর আগেই কাজ শেষ করেছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেটি গ্রহণ করছে না। বারবার ই-মেইল করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. হায়দার আলী বলেন, “তারা যেভাবে কাজটি হস্তান্তর করতে চাচ্ছে, তাতে নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে। আমরা তাদের জানিয়েছি, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না।”

উপাচার্য আরো জানান, এ নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দুইবার বৈঠক করেছি। দ্রুত সমাধানের জন্য আবারও আলোচনা করা হবে।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগের জবাবে রিয়াজ আহমেদ বলেন, “যদি কোনো ঘাটতি থাকে, তা নির্দিষ্ট করে জানাতে হবে। ব্যবহার না করে আগে থেকেই কাজ গ্রহণ না করা যৌক্তিক নয়।”

তিনি আরো বলেন, “কোম্পানিটির সক্ষমতা নিয়ে আমাদের কিছু প্রশ্ন আছে। আগের প্রশাসন কী বিবেচনায় কাজটি দিয়েছে তা পরিষ্কার নয়। এত বড় অঙ্কের অর্থ অগ্রিম দেওয়া ঠিক হয়নি বলেও মনে করি। তবুও আমরা চাই, দ্রুত সমস্যার সমাধান হোক।”

ঢাকা/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়