ঢাকা     সোমবার   ০৪ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২১ ১৪৩৩ || ১৬ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সংরক্ষিত নারী আসন: ৪৭ বছরের ধারাবাহিকতা থেকে ‘খুলনা’ বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:১৩, ৪ মে ২০২৬  
সংরক্ষিত নারী আসন: ৪৭ বছরের ধারাবাহিকতা থেকে ‘খুলনা’ বাদ

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ১৯৭৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে খুলনা থেকে সংসদ সদস্য ছিল। উল্লিখিত সময়ে যখন যে দল ক্ষমতাসীন হয়েছে, তখন সেই দলের কোনো না কোনো নেত্রীকে খুলনা থেকে সংসদ সদস্য মনোনীত করা হয়েছে। সংসদে উপকূলের নারীদের সংগ্রাম, দুঃখ-দুর্দশা তুলে ধরতে রাজনৈতিক দলগুলো খুলনা-বাগেরহাট অঞ্চলের বেড়ে ওঠা তাদের নেত্রীদের এমপি বানিয়েছে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকারের পক্ষে জাতীয় সংসদে তারা কথা বলেছেন।

এবার ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সেই ধারাবাহিকতার ছেদ পড়েছে। খুলনা থেকে কাউকে এমপি মনোনয়ন দেয়নি বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামী। এ নিয়ে খুলনার নেত্রীরা হতাশ প্রকাশ করেছেন। 

আরো পড়ুন:

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনে মাত্র ১১টিতে জয় পায় বিএনপি। এর মধ্যে ৪টি আসনই ছিল খুলনা জেলার। সবচেয়ে বেশি আসনে জয় উপহার দেওয়ার দাবি থেকে খুলনা অঞ্চলের ১২ জন নেত্রী বিএনপির সংরক্ষিত আসনের মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। এর মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্যসহ অনেকে ছিলেন। কিন্তু তাদের কাউকে বিএনপি মনোনয়ন দেয়নি।

একই অবস্থা বিরোধী দল জামায়াতেরও। খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ২৫টিতে জয় পেয়েছে দলটি। আনুপাতিক হার অনুযায়ী খুলনা বিভাগের ২৫টি আসনের জন্য ৪টি সংরক্ষিত আসন পেয়েছে জামায়াত। কিন্তু তার একটিও জোটেনি খুলনার নারী নেত্রীদের। সিলেট, বগুড়া ও চট্টগ্রামের জামায়াত নেত্রীদের সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিলেও খুলনার ভাগে পড়েছে শূন্য।

প্রথম সংসদে সংরক্ষিত আসন ছিল মাত্র ১৫টি। মুক্তিযুদ্ধের নারী সংগঠকরাই সেখানে স্থান পেয়েছিলেন। এর মধ্যে খুলনার কেউ ছিল না। দ্বিতীয় থেকে দ্বাদশ ১১টি সংসদে খুলনা থেকে নারী নেত্রীরা সংসদে গিয়েছেন। 

১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় এবং ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদে খুলনা থেকে সুলতানা জামান চৌধুরী, ১৯৮৮ সালে চতুর্থ সংসদের তালিকা পাওয়া যায়নি, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদে মহিলা দল সভানেত্রী সৈয়দা নার্গিস আলী, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নেত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, ২০০১ সালে আবারও সৈয়দা নার্গিস আলী, ২০০৮ সালে খুলনা মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী নূর আফরোজ আলী, ২০১৪ বাগেরহাটের আওয়ামী লীগ নেত্রী হ্যাপি বড়াল, ২০১৮ সালে খুলনার দাকোপের গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, ২০২৪ সালে দ্বাদশ সংসদে খুলনার দুই জন ছিলেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী মন্নুজান সুফিয়ান ও রুনু রেজা।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ফল ভালো হওয়ায় এবার দুই দল থেকে দু’জন যাওয়ার সুযোগ ছিল। সেটা হয়নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে।

সম্প্রতি ফোরাম খুলনার সভাপতি সিলভী হারুন বলেন, ‘‘উপকূলের নারীদের সংগ্রাম, উন্নয়ন, বঞ্চনা অন্য সব জেলা থেকে আলাদা। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলোর নেত্রীরা সংসদে গিয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন। সংসদে সমস্যা-সংকট তুলে ধরায় অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে। এবার সেই সুযোগও থাকল না। বিষয়টি নিয়ে আমরা হতাশ।’’ 

উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি শামীমা সুলতানা শীলু বলেন, ‘‘নারীদের সমস্যা নারীরাই সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে। আমরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাদের কাছে গিয়েছি। তারা সরকারের বিভিন্ন উইংয়ের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করেছেন। খুলনা যে উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার, এটা সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে আরো একবার প্রমাণ হলো।’’

মনোনয়নপ্রত্যাশী ও মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দা রেহেনা ঈসা বলেন, ‘‘খুলনা-বাগেরহাট থেকে একজন সংসদ সদস্য নিলে মানুষের ভোটের প্রতি সম্মান দেখানো হতো। কিন্তু এ অঞ্চলের নেতাদের তৎপরতা কম থাকায় সেটি সম্ভব হয়নি।’’ 
 

ঢাকা/নুরুজ্জামান/বকুল 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়