ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৮ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৪ ১৪৩৩ || ৩ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বসনিয়ার কঠিন পরীক্ষা নিবে দাপুটে সুইজারল্যান্ড

তৌহিদুল ইসলাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:০৭, ১৮ জুন ২০২৬   আপডেট: ২১:২৯, ১৮ জুন ২০২৬
বসনিয়ার কঠিন পরীক্ষা নিবে দাপুটে সুইজারল্যান্ড

ইনগেলউডের সোফাই স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপ গ্রুপ ‘বি’-এর ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে সুইজারল্যান্ড ও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। প্রথম ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্সের পর দুই দলই মুখিয়ে বড় জয় তুলে নিতে। ভেন্যু যেমন বড়, মঞ্চটা তার চেয়েও বড়, আর এই গ্রুপের শুরুর দিকের সমীকরণ এখনও পুরোপুরি উন্মুক্ত। সুইজারল্যান্ড মাঠে নামছে তাদের চেনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণাত্মক পরিসংখ্যান নিয়ে; অন্যদিকে বসনিয়া আসছে শৃঙ্খলা আর একরোখা রক্ষণভাগকে সঙ্গী করে। ম্যাচটি হতে যাচ্ছে বলের দখল বনাম প্রতিরোধের এক লড়াই, যেখানে ছোট ছোট ব্যবধান ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।

আরো পড়ুন:

সুইজারল্যান্ড গত চার ম্যাচে অপরাজিত। নিজেদের শেষ ৭ ম্যাচের ৬টিতেই প্রথম গোলটি এসেছে তাদের পা থেকেই। তবে মুরাত ইয়াকিনের চিন্তার কারণ, টানা ৩ ম্যাচ তার দল ধরে রাখতে পারেনি ক্লিন শিট। বিপরীতে ছোটখাট ভুল কাজে লাগাতে ওস্তাদ বসনিয়া।

ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাও।  টানা ৯ ম্যাচ অপরাজিত, যদিও এর মধ্যে শেষ তিন ম্যাচে তারা কোনো জয় পায়নি। তবে, তাদের সাম্প্রতিক স্কোরলাইনগুলোই বলে দেয়া ম্যাচে ছেড়ে কথা বলার পাত্র নয় তারা।  

এই ম্যাচের লড়াইটা মূলত, সুইজারল্যান্ডের আক্রমন আর বসনিয়ার ডিফেন্স লাইনের মধ্যে হতে যাচ্ছে।  সুইজারল্যান্ডের প্রথম ম্যাচটি বলের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচয়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়। তারা ৬৮% সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল, ৫৭৬টি পাসের মধ্যে ৫২৭টি সফলভাবে সম্পন্ন করেছিল যার, ৯১ শতাংশই নিখুঁত। গোলের জন্য শট নিয়েছিলো ২৬টি ।  তবে, ৬টি বড় সুযোগের মধ্যে তারা মিস করে ৫টাই।  

মাঝমাঠে, সুইজারল্যান্ডের বল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও গড়ে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। সবশেষ ম্যাচে গ্রানিত জাকা ৯৪.৬% সফলতায় পাস করেছেন ৭০টি। অতিক্রম করেছেন ১০.৫ কিলোমিটার দূরত্ব। রিকার্ডো রদ্রিগেজ এবং ম্যানুয়েল আকাঞ্জি রক্ষণভাগ থেকে খেলেছেন প্রোগ্রেসিভ ফুটবল, দুজনে মিলে দিয়েছেন  ১৪৬টি নিখুঁত পাস। 
বিপরীতে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ছিলো রক্ষনাত্মক। নিজেদের অর্ধে কড়া ডিফেন্স লাইন মেইনটেইন করে, কাউন্টার অ্যাটাকে জবাব দেয় তারা।  সবশেষ ম্যাচে, ৭০টি ক্লিয়ারেন্স এবং ৬৪টি এরিয়াল ডুয়েলের মধ্যে ৪৩টিতে ছিলো জয়, সফলতার হার ৬৭.২%। 

সুইজারল্যান্ড ও বসনিয়ার খুব বেশি দেখা না হলেও, মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে বসনিয়া।  ২০১৬ সালের একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে সুইসদের ২-০ গোলে হারিয়েছিলো তারা। 

এই ম্যাচে নজরে থাকবেন সুইজারল্যান্ডের রুবেন ভার্গাস। গত ম্যাচে ৯৩% নিখুঁত পাসের পাশাপাশি দিয়েছেন ৫টি কি-পাস। ৮টি ডুয়েল জিতেছেন, ২টি ড্রিবলিংয়ে সফল এবং ৩টি শটের মধ্যে ১টি অন-টার্গেট রাখতে পেরেছেন ভার্গাস।  

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার নিকোলা কাটিচের উপর থাকবে কোচের ভরসা।  ১৬টি ক্লিয়ারেন্স, ৫টি ট্যাকল এবং ৩টি ইন্টারসেপশন ছিলো গত ম্যাচে। এছাড়া ২৪টি ডুয়েলের মধ্যে ১৫টিতেই জিতেছেন, যার মধ্যে ১০টিই ছিল এরিয়াল ডুয়েল। সুইসদের আটকাতে রক্ষনের নেতৃত্বটা থাকবে কাটিচের ঘাড়েই। 

৪-৩-৩ ফরমেশনের দল সাজাবে সুইস বস মুরাত ইয়াকিন। গোলপোস্টে কোবেল, রদ্রিগেজ, আকাঞ্জি ও এলভেদিকে নিয়ে রক্ষণভাগ; মাঝমাঠে থাকছেন জাকা, ফ্রয়লার এবং এবিশার। আর আক্রমণভাগে এম্বোলোর দুই পাশে থাকছেন ভার্গাস ও এনদয়।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে দেখা যাবে চিরোচেনা ৪-৪-২ ফরমেশনে। যেখানে গোলপোস্টে ভ্যাসিলজ; রক্ষণে দেদিচ, কাটিচ, মুহারেমিভিচ এবং কোলাসিনাচ; মাঝমাঠে বাসিচ ও তাহিরোভিচের মতো কঠোর পরিশ্রমী খেলোয়াড় এবং স্ট্রাইকার হিসেবে খেলবেন ডেমি চ্যান এবং লুকিচ।

ঢাকা/নাভিদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়