মার্কিন নৌবাহিনীকে ফাঁকি দিল ইরানি সুপারট্যাঙ্কার ‘ডেরিয়া’
প্রতীকী ছবি
মার্কিন নৌবাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে ইরানের আরো একটি সুপারট্যাঙ্কার ইন্দোনেশিয়ার লোম্বক প্রণালিতে প্রবেশ করেছে। সোমবার (৪ মে) তেলবাহী জাহাজ পর্যবক্ষেণকারী সংস্থা ‘ট্যাঙ্কার ট্র্যাকারস’ এই তথ্য জানিয়েছে। খবর রোয়া নিউজের।
সংস্থাটি জানায়, ‘ডেরিয়া’ নামক এই সুপারট্যাঙ্কারটি বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার জলসীমা দিয়ে রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর আগে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে জাহাজটি ১৮.৮ লাখ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল নিয়ে ভারতে পৌঁছানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে ট্যাঙ্কার ট্র্যাকারস জানায়, ভারতের পর জাহাজটি তার গতিপথ পরিবর্তন করে দক্ষিণ দিকে যাত্রা শুরু করে। ওই সময় ওই অঞ্চলে ইরান সংশ্লিষ্ট আরো বেশ কিছু ট্যাঙ্কারকে মার্কিন নৌবাহিনী বাধা দিলেও ‘ডেরিয়া’ তা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়। বর্তমানে জাহাজটি রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের দিকে এগোচ্ছে।
এই ঘটনার ঠিক একদিন আগেই সংস্থাটি জানিয়েছিল যে, ‘হিউজ’ নামক আরেকটি ইরানি সুপারট্যাঙ্কার ১৯ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে মার্কিন নজরদারি এড়িয়ে লোম্বক প্রণালিতে প্রবেশ করেছে।
ট্যাঙ্কার ট্র্যাকারস-এর তথ্যমতে, এপ্রিল মাসে ইরান থেকে মোট ২৫টি তেলের ট্যাঙ্কার রওনা দিয়েছিল। এর মধ্যে ৭টি জাহাজকে মার্কিন নৌবাহিনী বাধা দিয়ে পুনরায় ইরানি বন্দরে ফেরত পাঠিয়েছে। ২টি জাহাজকে মার্কিন বাহিনী জব্দ করেছে। বাকি জাহাজগুলো সফলভাবে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
সাধারণত আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো মালাক্কা প্রণালি ব্যবহার করলেও, সেখানে মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর কড়া নজরদারি থাকে। ফলে সেই নজরদারি এড়াতে লোম্বক প্রণালি এখন ইরানি তেল পরিবহনের বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ রুট হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোকে আবারো সামনে নিয়ে এসেছে।
ঢাকা/ফিরোজ