ঢাকা     রোববার   ০৩ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২০ ১৪৩৩ || ১৬ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা সোমবার

কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:২৪, ৩ মে ২০২৬   আপডেট: ২০:৪৬, ৩ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা সোমবার

সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হবে। দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফলতা বিধানসভা বাদে ২৯৩ টি আসনের ফল গণনা হবে। সকাল ৮ টা থেকে শুরু হবে গণনা। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট এবং তারপর ইভিএম-এর গণনা হবে।

নির্বাচন কমিশন ভোটগণনা অবাধ ও স্বচ্ছ রাখতে ব্যাপক বন্দোবস্ত করেছে। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে জারি হয়েছে বিধিনিষেধ। সিসিটিভি ক্যামেরা ও ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

আরো পড়ুন:

গণনা কেন্দ্রের নিরাপত্তায় ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থা রয়েছে। তৎপর রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ। শুধুমাত্র কিউআর কোডভিত্তিক পরিচয়পত্র থাকলে তবেই গননা কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি মিলবে। কাউন্টিং অবজার্ভার এবং রিটার্নিং অফিসার ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে সেখানে ঢুকতে পারবেন না।

তবে অন্যান্যবারের তুলনায় এবার কমানো হয়েছে গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ভোটগণনা হয়েছিল ৯০টি কেন্দ্রে। ২০২১ সালের নির্বাচনে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয় ১০৮টি। তবে এবার ভোট গণনা করা হচ্ছে কলকাতাসহ রাজ্যের ৭৭টি গণনাকেন্দ্রে। এর মধ্যে কলকাতায় রয়েছে পাঁচটি গণনাকেন্দ্র। কলকাতার সবচেয়ে বড় গণনাকেন্দ্র হচ্ছে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র। এখানে কলকাতার ১১টি বিধানসভা আসনের সাতটি আসনের ভোট গণনা হবে। 

সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে নির্বাচন কমিশন মোট ৪৩২ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। এছাড়া ১৬৫ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক এবং ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। উত্তর ২৪ পরগনায় ৩৩টি আসনে ৪৯ জন গণনা পর্যবেক্ষক রয়েছেন। রাজ্যে এটাই সর্বাধিক। সবচেয়ে কম আলিপুরদুয়ারে। সেখানে পাঁচটি আসনে ছয় জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।

যদিও রাজ্যের এই স্ট্রং রুম নিয়ে তৃণমূলের সন্দেহ ঘোচাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল এখনো মনে করছে, বিজেপি নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় স্ট্রং রুমে ঢুকে ইভিএম মেশিনে কারচুপি করে ফলাফল বদলে দিতে পারে। তাই মমতা কড়া ভাষায় এই স্ট্রং রুম পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীদের। বলেছেন, ৪ মে ভোর পর্যন্ত কড়া নজরে রাখতে হবে সব স্ট্রং রুম।

মুখ্যমন্ত্রী মমতাও শুক্রবার রাতে ৪ ঘণ্টা অবস্থান করেন সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল কেন্দ্রের স্ট্রং রুমে। ফেরার সময় কর্মীদের বলে যান, ওরা ইভিএম কারচুপি করতে পারে। সজাগ থাকতে হবে কর্মীদের। পাহারা দিতে হবে। ওদের ইভিএম বদলিয়ে ভোটের অঙ্ক বদলানোর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। 

রাজ্যের দুই দফায় নেওয়া ভোটগ্রহণে রেকর্ড ৯৩ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে । সোমবার সকাল হতেই বোঝা যাবে ক্ষমতার রাস থাকবে কার হাতে। ৮টায় শুরু হবে ভোটগণনা। আর প্রথমেই হবে পোস্টাল ব্যালট গোনা। পোস্টাল ব্যালট গোনা শেষ হলে ইভিএম-এ ভোটগণনা শুরু হয়ে যাবে। মোটামুটি চার ঘণ্টার মতো সময় লাগতে পারে আর্লি ট্রেন্ড বুঝতে বুঝতে। তাই এটা ধরা যায় যে, দুপুর ১২টা নাগাদ একটু একটু করে পরিষ্কার হতে থাকবে ভোটের ফলাফল। 

যদিও তখনই চূড়ান্ত ফলাফল কোন দিকে যাবে, সেটা বলা যায় না। কারণ, ভোটগণনা চলে একাধিক রাউন্ডে। কোনো একটি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি নির্দিষ্ট রাউন্ডে কোনো একটি দলের প্রার্থী এগিয়ে থাকতেই পারেন। আবার পরের রাউন্ডেই তিনি হয়তো পিছিয়ে যেতে পারেন। উঠে আসতে পারেন অন্য কোনো প্রার্থী। তাই ১২টা পর্যন্ত দেখেই সবটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। বরং সেই ফলাফল পেতে পেতে বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে। 

বুথফেরত সমীক্ষার বড় অংশই ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতে পারে এবং বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮ আসন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও পেতে পারে। সেক্ষেত্রে জোট সরকারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি একইদিনে আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং পুদুচেরিতেও ফল প্রকাশিত হবে। অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষাই কেরলে সরকার বদলের ইঙ্গিত দিয়েছে। আসাম, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরিতে ক্ষমতাসীন জোটের প্রত্যাবর্তনের বার্তা দেওয়া হয়েছে সমীক্ষায়। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর ফলাফল নিয়েও যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে, সেখানে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিন নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন, নাকি নতুন শক্তি হিসেবে অভিনেতা বিজয় থলপতির দল উঠে আসবে, সেটাও দেখার বিষয়।

ঢাকা/সুচরিতা/শাহেদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়