সত্যজিৎ রায়ের জন্মজয়ন্তী ঘিরে জাবিতে ২ দিনব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব
জাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুই দিনব্যাপী বিশেষ চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হয়েছে।
রবিবার (৩ মে) বিকেলে জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার হলে ‘ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের উদ্যোগে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জাবি উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান, দেশের বরেণ্য চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও গবেষকরা সত্যজিৎ রায়ের বহুমাত্রিক জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন। সত্যজিৎ রায়কে মানুষের ‘মনস্তত্ত্ব ও জীবন বাস্তবতার চিকিৎসক’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে উপাচার্য বলেন, “নিজের জীবন ও সমাজকে বোঝার এক অনন্য মাধ্যম তার চলচ্চিত্র। একজন চিকিৎসক যেমন মানুষের শরীর সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন, তেমনি সত্যজিৎ রায় মানুষের মনস্তত্ত্ব ও জীবন বাস্তবতাকে গভীরভাবে অনুধাবন করে তা নিখুঁতভাবে পর্দায় তুলে ধরেছেন।” তিনি ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপরও গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনের কাউন্সিলর (শিক্ষা ও উন্নয়ন অংশীদারিত্ব) শ্রী নারপাত সিং। তিনি বলেন, “সত্যজিৎ রায় কেবল একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা নন; তিনি একাধারে লেখক, ইলাস্ট্রেটর ও সংগীত পরিচালকও ছিলেন। ১৯৫৫ সালে ‘পথের পাঁচালী’র মাধ্যমে তিনি বিশ্ব চলচ্চিত্রে বাস্তবতাবাদের নতুন ধারা সূচনা করেন। ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একজন উজ্জ্বল প্রতিনিধি হিসেবেও তিনি উল্লেখযোগ্য।” এ সময় তিনি ‘সোনার কেল্লা’ ও ‘নায়ক’ চলচ্চিত্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হারুন অর রশীদ বলেন, “সত্যজিৎ রায়ের প্রতিটি ফ্রেম ও শট ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল ব্যবহারে তার দক্ষতা ছিল অসাধারণ। ‘পথের পাঁচালী’র কাশবনের ট্রেন দৃশ্যসহ তার প্রতিটি কাজই গভীর চিন্তার প্রতিফলন।” তিনি সত্যজিৎ রায়কে রবীন্দ্রনাথের উত্তরসূরি হিসেবে উল্লেখ করে নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের তার কাজ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।
উৎসবকে আরো প্রাণবন্ত করতে চারুকলা বিভাগের সহযোগিতায় মিলনায়তন প্রাঙ্গণে একটি আর্ট ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা সত্যজিৎ রায়ের জীবন ও কাজ নিয়ে চিত্রাঙ্কনে অংশ নেন।
এছাড়া, সন্ধ্যা ৭টায় সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র নিয়ে একটি বিশেষ মাস্টার ক্লাস পরিচালনা করেন প্রখ্যাত নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চলচ্চিত্র উৎসবের আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম। এ আয়োজনের সহযোগী হিসেবে রয়েছে সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠ তপোবন, বহুমাত্রিক, কম এবং জাহাঙ্গীরনগর সিনে সোসাইটি। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন সোমবার (৪ মে) সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
ঢাকা/আহসান/জান্নাত