ঢাকা     রোববার   ০৩ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২০ ১৪৩৩ || ১৬ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

গফরগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিম্নমানের ওষুধ কেনার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:২২, ৩ মে ২০২৬   আপডেট: ২১:২৫, ৩ মে ২০২৬
গফরগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিম্নমানের ওষুধ কেনার অভিযোগ

অনিয়ম ও দুর্নীতি করে নিম্নমানের ওষুধ কেনার অভিযোগ তুলেছেন হাসপাতালের ক্রয় কমিটির সভাপতি ডা. মো. কায়সার হাসান খান।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম, ক্রয় কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার কেনাকাটায় আর্থিক কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। 

এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) বহির্ভূত দরপত্রের মাধ্যমে উচ্চ মূল্যে নিম্নমানের ওষুধ ক্রয়, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কমিটি গঠন, তদন্তে বাধা এবং অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগের মতো গুরুতর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হাসপাতালের ক্রয় কমিটির সভাপতি ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. মো. কায়সার হাসান খান।

আরো পড়ুন:

রবিবার (৩ মে) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডা. কায়সার হাসান খান বলেন, গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে সরকারি অর্থে ওষুধ কেনার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। তার অভিযোগ, ইডিসিএল বহির্ভূত দরপত্রের মাধ্যমে উচ্চ দামে নিম্নমানের ওষুধ কেনা হয়েছে এবং পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়া তার অজ্ঞাতে সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি জানান, নিম্নমানের ওষুধ গ্রহণে আপত্তি জানালে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনে রোষানলে পড়েন। তার মতামত উপেক্ষা করে ওই ওষুধ হাসপাতালের স্টোরে মজুদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগ করা হয়, মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইমতিয়াজ হোসাইন এবং সদস্য হিসেবে জামাল উদ্দিনের সহধর্মিণী, নান্দাইল উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. শামীমা সুলতানাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অথচ মূল্যায়ন কমিটির চিঠি বা অফিস আদেশ তিনি পাননি বলে দাবি করেন।

ডা. কায়সারের অভিযোগ, তার নামের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে পুরো মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। 

তিনি দাবি করেন, উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম ও অর্থ কারচুপির সঙ্গে জড়িত।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, এসব অনিয়মের বিষয়ে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু তদন্ত কমিটি গত ৭ এপ্রিল হাসপাতালে তদন্তে গেলে প্রায় দেড় থেকে দুইশত বহিরাগত লোকজন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে মব সৃষ্টি করে তদন্ত কার্যক্রমে বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওইদিন তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং তার গাড়িচালক মফিদুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। তদন্ত প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করতে পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

এছাড়া ডা. কায়সার অভিযোগ করেন, অতীতে হাসপাতালের বৈকালিক চেম্বারে তার প্রাপ্য পারিশ্রমিক থেকেও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ১০ হাজার টাকা করে আদায় করতেন। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডা. কায়সার হাসান খানের গাড়িচালক মফিদুল ইসলাম।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই এ নিয়ে তিনি বক্তব্য দেননি।

ঢাকা/মিলন/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়