বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক ভাইয়ের মতো: ভারতের সহকারী হাইকমিশনার
লালমনিরহাট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
বুড়িমারী স্থলবন্দরের সভাকক্ষে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, আমদানি-রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ভারতের সহকারী হাইকমিশনার।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক ভ্রাতৃত্বের অটুট বন্ধন হিসেবে অভিহিত করেছেন ভারতের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী মনোজ কুমার। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ। আমরা একে অপরের ভাইয়ের মতো।’’
শনিবার (২ মে) দুপুরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরের সভাকক্ষে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, আমদানি-রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।
ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার বলেন, ‘‘দুই দেশের মানুষ ও ব্যবসায়ীরা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করলে এই অঞ্চলে শান্তি বাড়বে এবং উন্নয়নের চাকা আরো দ্রুত এগিয়ে যাবে।’’
মতবিনিময় সভায় সহকারী হাইকমিশনার বলেন, ‘‘দুই দেশের ব্যবসায়ীরা বর্তমানে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কাজ করছেন, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। প্রত্যেকে যার যার সক্ষমতা অনুযায়ী অবদান রাখছেন এবং এই অগ্রগতিতে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও সন্তুষ্ট। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে যে সব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেগুলো গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’’
বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে। এ বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা পাওয়া এখন অনেক সহজ করা হয়েছে। বিশেষ কিছু সুবিধাও রাখা হয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ভিসা প্রদান অব্যাহত আছে এবং অন্যান্য পর্যায়েও ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’’
দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে শ্রী মনোজ কুমার বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মধ্যে ব্যাপক মিল রয়েছে। আমাদের উচিত এই সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তা গড়ে তোলা।’’
সভায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে কিছু পণ্যের ওপর থাকা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ভিসা জটিলতা পুরোপুরি নিরসনের দাবি জানানো হয়। সহকারী হাইকমিশনার এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন— বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার (ডিসি) মহী উদ্দিন, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মাহমুদুল হাসান, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এএসএম নিয়াজ নাহিদ, আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল, সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান রাজু এবং লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক হুমায়ুন কবির সওদাগরসহ স্থানীয় কর্মকর্তা ও নেতারা।
এর আগে সহকারী হাইকমিশনার বুড়িমারী স্থলবন্দরে পৌঁছালে ব্যবসায়ীরা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সভা শেষে তিনি বন্দরের ‘জিরো পয়েন্ট’ বা শূন্যরেখা পরিদর্শন করেন। সেখানে ভারতীয় চ্যাংড়াবান্ধা শুল্ক স্টেশনের কাস্টমস, বিএসএফ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা তাঁকে স্বাগত জানান।
বিকেলে তিনি পাটগ্রাম উপজেলার পাটেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করেন এবং সেখান থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হন।
ঢাকা/সিপন/বকুল
কেবল কথা বলার কারণে গ্রেপ্তার গ্রহণযোগ্য নয়: প্রধানমন্ত্রী