ঢাকা     শুক্রবার   ০১ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৮ ১৪৩৩ || ১৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মে দিবসে জিএম কা‌দে‌রের শু‌ভেচ্ছা

শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় ছয় দা‌বি 

বি‌শেষ প্রতি‌বেদক  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:১৬, ১ মে ২০২৬  
শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় ছয় দা‌বি 

জাতীয় পা‌র্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কা‌দের। 

মহান মে দিবস উপলক্ষে দেশ ও বিদেশের সকল শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা, গভীর শ্রদ্ধা ও সংহতি জা‌নি‌য়ে‌ছেন জাতীয় পা‌র্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কা‌দের। 

আজ শুক্রবার এক বিবৃ‌তি‌তে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় ন্যূনতম মজু‌রিসহ সরকা‌রের কা‌ছে ছয়‌টি দা‌বি বাস্তবায়‌নের আহ্বান জা‌নান তিনি।  

আরো পড়ুন:

দা‌বিগু‌লো হ‌লো :

১. ন্যায্য মজুরি: জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সকল খাতের শ্রমিকের জন্য ন্যায্য মজুরি।
২. কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন: বন্ধ মিল-কারখানা দ্রুত চালু করে শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহাল এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. নিরাপদ কর্মপরিবেশ: কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্ঘটনা বিমা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৪. নারী শ্রমিকের সুরক্ষা: নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা ও সমমজুরি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
৫. সামাজিক নিরাপত্তা: অনানুষ্ঠানিক খাতের বিশাল জনগোষ্ঠীকে শ্রম আইনের সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে।
৬. গণতান্ত্রিক অধিকার: শ্রমিক সংগঠনের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ট্রেড ইউনিয়ন করার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

জিএম কা‌দের ব‌লেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন, শিল্পায়ন, কৃষি উৎপাদন, গার্মেন্টস শিল্প, নির্মাণ খাত, পরিবহন এবং প্রবাস আয়ের মূল কারিগর হলেন আমাদের শ্রমিকেরা। শ্রমিক শ্রেণির ঘাম, ত্যাগ ও পরিশ্রমেই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। মূলত শ্রমিক সমাজই এই দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। তাই তাদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু সময়ের দাবিই নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত।

তি‌নি ব‌লেন, বর্তমানে দেশের শ্রমিক সমাজ নানাবিধ সংকটের মধ্য দিয়ে দিন যাপন করছে। উচ্চ দ্রব্যমূল্য, বাসস্থান সংকট এবং চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে শ্রমজীবী মানুষের জীবন আজ অতিষ্ঠ। অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনও ন্যায্য মজুরি ও সময়মতো বেতন-ভাতা নিশ্চিত হয়নি। বিশেষ করে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানার শ্রমিকরা চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা এবং নারী শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্য আমাদের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে।

জাতীয় পার্টি মনে করে শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে, আর শিল্প বাঁচলে দেশ এগোবে। 

১৮৮৬ সালের মে মাসের ঐতিহাসিক সংগ্রাম এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে আসা মে দিবস আমাদের অধিকার আদায়ের শিক্ষা দেয়। আসুন, শ্রমিক-মালিক ও রাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি উৎপাদনশীল, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি। মহান মে দিবসে দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন জিএম কা‌দের।

ঢাকা/নঈমুদ্দীন// 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়