ঢাকা     সোমবার   ১৫ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ১ ১৪৩৩ || ২৯ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে মুখে কুলুপ নেতানিয়াহু প্রশাসনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৪১, ১৫ জুন ২০২৬   আপডেট: ১১:৪২, ১৫ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে মুখে কুলুপ নেতানিয়াহু প্রশাসনের

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই শান্তিচুক্তি নিয়ে ইসরায়েল সরকার এখনো কোনো মন্তব্য করেনি, মুখে কুলুপ এঁটেছে। যদিও ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তীব্র প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যে লক্ষ্য করা গেছে। 

আরো পড়ুন:

সোমবার (১৫ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে শান্তিচুক্তির খবর সামনে আসার পরপরই ইসরায়েলের ডানপন্থি গণমাধ্যমগুলো খুবই আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে অবজ্ঞা করেছেন এবং তিনি একজন ‘অবিশ্বস্ত মিত্র’- এমন দাবি করে তার তীব্র সমালোচনা করছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো।

এদিকে, ইসরায়েল সরকার এখনো নীরবতা বজায় থাকলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনের সূত্রে জানা গেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেছেন- ইসরায়েল এই চুক্তির কোনো অংশ নয়। লেবাননের যেসব এলাকা ইতিমধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী দখল করেছে, সেখান থেকে তারা কোনোভাবেই পিছু হটবে না। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর গলাতেও একই সুর শোনা গেছে।

গত রবিবার (১৩ জুন) লেবাননে ইসরায়েলের চালানো বিমান হামলাকে দেশটির গণমাধ্যমগুলো চুক্তি নস্যাৎ করার একটি চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করছে। এই হামলার প্রতি ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন জোটের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোরও ব্যাপক সমর্থন ছিল।

তবে এই সামরিক পদক্ষেপটি শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের জন্য বা উল্টো ফল বয়ে এনেছে। হামলার পর পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার বদলে কূটনৈতিক তৎপরতা আরো বেগবান হয়, যা প্রকারান্তরে ট্রাম্পের এই নতুন চুক্তি ঘোষণাকে ত্বরান্বিত করেছে।

ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণার পর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এখন বড় কিছু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- ইসরায়েল সরকার কি এটি মেনে চলবে? তারা কি গুলিবর্ষণ ও আগ্রাসন বন্ধ করবে? তারা কি ইরানের রেড লাইন মেনে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দেবে? 

উল্লেখ্য, বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরায়েলের হামলার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের এই সমঝোতা স্মারক ঘোষণার প্রক্রিয়াকে প্রায় ভেস্তে দেওয়ার উপক্রম করেছিল।

আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিচুক্তি সই হবে, অর্থাৎ এখনো আরো কিছুদিন বাকি আছে। আর এই সময়ের মধ্যে অনেক কিছুই ঘটতে পারে।  মূলত এখানেই ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ সব মনোযোগ কেন্দ্রীভূত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অর্থাৎ ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক অবনতির ঝুঁকি নিয়ে হলেও লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য ইসরায়েলি সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বজায় থাকবে।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়