ঢাকা     শুক্রবার   ০১ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৮ ১৪৩৩ || ১৪ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সিলেট নগরীতে বৃষ্টি, অনিশ্চয়তা আর শ্রমিকের জীবন

মোসাইদ রাহাত, সিলেট || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:১৬, ১ মে ২০২৬   আপডেট: ১৯:১৭, ১ মে ২০২৬
সিলেট নগরীতে বৃষ্টি, অনিশ্চয়তা আর শ্রমিকের জীবন

সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা। দুপুরের পর বৃষ্টি নামতেই সিলেট নগরের বন্দরবাজার এলাকায় রিকশার জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের ভিড় কমে আসে। ফুটপাতে বসে ছিলেন রিকশাচালক আব্দুল করিম (৪২)। হাতে এক কাপ চা, চোখে অনিশ্চয়তার ছাপ। তিনি বললেন, “বৃষ্টি হইলে যাত্রী কমে যায়। আজকে এখন পর্যন্ত ৩০০ টাকাও আয় হয় নাই।”

আজ মহান মে দিবস। শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদার দাবির এই দিনে শহরের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বড় একটি অংশ রিকশাচালক, ভ্যানচালক, হকার, দিনমজুর রয়ে যান আলোচনার বাইরে। তাদের নেই নির্দিষ্ট মজুরি, নেই কাজের নিশ্চয়তা, সামাজিক নিরাপত্তাও সীমিত।

আরো পড়ুন:

নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, দিনভিত্তিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল এই শ্রমজীবী মানুষের জীবন প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মধ্যে ঘুরপাক খায়। কাজ থাকলে আয়, না থাকলে ধার, এই হিসাবেই চলে তাদের প্রতিদিন।

আব্দুল করিম বলেন, “প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হয়। এর মধ্যে ২৫০ টাকা চলে যায় রিকশা মালিকের কাছে। বাকি টাকায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে। বাচ্চার পড়ালেখা, ঘরের ভাড়া, সব মিলাইয়া কুলাইতে পারি না।”

জিন্দাবাজার এলাকার ফুটপাতের হকার সোহেল মিয়া (৩৫) বলেন, “বৃষ্টি হইলে বিক্রি থাকে না। কেউ থামে না। আবার মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযানে বসতেও পারি না।”

অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের এসব শ্রমিকের জন্য কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় নেই বললেই চলে। অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কোনো অবস্থাতেই তারা নিয়মিত সহায়তা পান না।

সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ছাদেক মিয়া বলেন, “মে দিবসে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য সারা বছর তেমন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। তাদের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা জরুরি।”

এদিকে নগরের জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে। বাসাভাড়া, খাদ্যদ্রব্য, চিকিৎসা, সবকিছুর দাম বাড়লেও এই শ্রমিকদের আয়ে তেমন পরিবর্তন নেই।

দিনমজুর রহিম উদ্দিন (৫০) বলেন, “আগে ৫০০ টাকায় কিছুটা চলতো, এখন ৮০০ টাকাতেও হয় না। কাজও নিয়মিত পাওয়া যায় না।”
সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকলেও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের অনেক শ্রমিকই এর বাইরে রয়ে যাচ্ছেন। রিকশার

হ্যান্ডেলে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে রুকন আলী বললেন, “মে দিবস কী, এইটা আমরা তেমন বুঝি না। আমরা চাই কাজ থাকুক, আয় থাকুক। পরিবারটা যেন ঠিকমতো চলতে পারে, এর বেশি কিছু না।”

ঢাকা/জান্নাত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়