ঢাকা     রোববার   ১৪ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩৩ || ২৯ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ইসলামী ব্যাংক লুটেরাদের পুনরায় সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ সংসদে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২৪, ১৪ জুন ২০২৬  
ইসলামী ব্যাংক লুটেরাদের পুনরায় সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ সংসদে

ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের আবারও সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। একইসঙ্গে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটে জাকাত ব্যবস্থার অনুপস্থিতি, সম্পূরক বাজেট অনুমোদনের পদ্ধতি এবং সরকারি অপচয়ের কঠোর সমালোচনা করেন।

আরো পড়ুন:

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ সব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকে এক সময় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার তারল্য ছিল। এস আলম গ্রুপ ও তাদের সহযোগীরা সেই অর্থ লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সব ঘটনার বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবি উঠলেও বাস্তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং একই গোষ্ঠীকে আবারও সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামনের সারিতে বসা অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও এসব আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় জাকাত প্রসঙ্গ উপেক্ষিত হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের বিপুল মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য জাকাত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। অথচ বাজেট আলোচনায় এর কোনো উল্লেখ নেই। তার মতে, সুষ্ঠুভাবে জাকাত ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও বেকারত্ব মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সুদ হারাম হলেও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে এ বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

সম্পূরক বাজেট পাসের বিদ্যমান প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সংসদ সদস্য। তার ভাষ্য, আগে অর্থ ব্যয় করা হয়, পরে সংসদের অনুমোদন চাওয়া হয়। এতে সংসদীয় জবাবদিহিতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সরকারি অপচয়ের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সংসদ ভবনের অনেক কক্ষে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে সংযম ও অপচয় রোধে বাজেটে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা উচিত ছিল।

মদ ও সিগারেটের মূল্য নিয়ে সংসদে হওয়া আলোচনা প্রসঙ্গেও সমালোচনা করেন তিনি। এসব পণ্যের বিষয়ে অতিরিক্ত সহনশীল মনোভাব গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন।

এ ছাড়া নতুন সংসদ সদস্যদের জন্য সংসদীয় রীতি-নীতি ও কার্যপ্রণালী বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী ব্যক্তিকে যথাযথভাবে সম্বোধন করার মতো মৌলিক বিষয়েও অনেক সদস্যের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

ঢাকা/এএএম/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়