ঢাকা     রোববার   ১৪ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩৩ || ২৯ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

উত্তেজনার পারদ ছড়িয়ে রোমাঞ্চের শেষে বিষাদের হাসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:২১, ১৪ জুন ২০২৬   আপডেট: ২১:৫০, ১৪ জুন ২০২৬
উত্তেজনার পারদ ছড়িয়ে রোমাঞ্চের শেষে বিষাদের হাসি

অস্ট্রেলিয়া মাথা তুলে লড়াই করে জয়ের পথে ছিল। হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম‌্যাচে অতিথিরা সেরা ক্রিকেটটাই খেলল মিরপুরের ২২ গজে। নিজেদের ব্র‌্যান্ডের ক্রিকেট।

আরো পড়ুন:

বাংলাদেশের দেওয়া ২৭৫ রানের লক্ষ‌্য তাড়ায় ৪৫ ওভারে ৫ উইকেটে তাদের রান ২৬৬। আগের ওভারে ৩ ছক্কা হজম করে তাসকিন ম‌্যাচটার এপিটাফ লিখে ফেলেছিলেন। হাতে ৫ উইকেট রেখে শেষ ৩০ বলে দরকার কেবল ৯ রান। ক্রিজে ১৪৯ রানে ব‌্যাটিংয়ে ছিলেন কুপার কোনোলি। অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিং রুমে তখন জয়ের সুবাতাস বইছিল।

কিন্তু, বাংলাদেশ হারার আগে ম‌্যাচটা ছেড়ে দেয়নি। ৪৬তম ওভারে শরিফুল ইসলাম জোড়া উইকেট নেন। খরচ করেন ১ রান। ওয়ানডেতে তার প্রথম ফাইফার। মোস্তাফিজুর ৪৭তম ওভারে ৩ রানের বেশি দেননি। ৪৮তম ওভারে শরিফুল ফিরে কোনো রান না দিয়ে তুলে নেন আরো ১ উইকেট। পেতে পারতেন আরো ১টি। কিন্তু স্লিপে অ‌্যাডাম জাম্পার ক‌্যাচ তানজিদ হাসান নিতে পারেননি।

শেষ ১২ বলে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ৫ রান। হাতে ২ উইকেট। মোস্তাফিজুর ৪৯তম ওভার করতে এসে ১৪৯ রান করা কোনোলিকে বোল্ড করলে ম‌্যাচের ভাগ‌্য বাংলাদেশের পক্ষে ফেরার সম্ভাবনা দেখা যায়। ১৩ চার ও ৬ ছক্কায় ১৩৪ বলে ১৪৯ রান করেন বাঁহাতি ব‌্যাটসম‌্যান। বাংলাদেশের জয়ের জন‌্য চাই ১ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার ৪ রান। শেষ ওভারে তাসকিন বোলিংয়ে এসে জাম্পার হাতে বাউন্ডারি হজম করলে অস্ট্রেলিয়া হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর স্বস্তি পায়।

হাতে ৩ বল রেখে ১ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয়ে সিরিজের শেষ হাসিটা হেসেছে অস্ট্র্রেলিয়া। এশিয়ার কোনো দল অস্ট্রেলিয়াকে কখনো ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ করেনি।বাংলাদেশের আজ ইতিহাস গড়ার সুযোগ ছিল। উত্তেজনার পারদ ছড়িয়ে রোমাঞ্চকর পরিস্থিতি তৈরি করলেও শেষটার রাঙাতে পারেনি। তাতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই অবশ‌্যই। অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব‌্যবধানে সিরিজ হারানোও অনেক গৌরবের।

বাংলাদেশের থেকে ম‌্যাচ ছিনিয়ে নিয়েছেন কোনোলি। তার ১৪৯ বাদে তেমন রান করতে পারেননি কেউ। বিশের থেকে ত্রিশের ঘরে আটকে গিয়েছেন চার ব‌্যাটসম‌্যান। জশ ইংলিশ ২১, মার্নাশ লাবুশানে ২৯, ক‌্যামেরুন গ্রিন ও ওলিভার পিকে ২৭ রানের দুইটি ইনিংস খেলেন।

নাহিদ রানার পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া শরিফুল ১০ ওভারে ১ মেডেনে ৪৮ রানে ৬ উইকেট নেন। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে এর আগে ৬ উইকেট পেয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, রুবেল হোসেন, রিশাদ হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান।  

এর আগে বাংলাদেশের ইনিংসে ছিল তিনটি ফিফটি ছাড়ানো ইনিংস। প্রথমে তাওহীদ হৃদয়, পরে মোসাদ্দেক হোসেন এবং সবশেষ লিটন দাস ফিফটির স্বাদ পান। ২০১৫ সালে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লিটন দাসের অভিষেক। ১১ বছর পর লিটন মিরপুরে প্রথম ফিফটির দেখা পেলেন! ৫৮ রান আসে তার ব‌্যাট থেকে। তাওহীদ সর্বোচ্চ ৮৩ ও মোসাদ্দেক করেন ৫৬ রান। 

লিটন এর আগে মিরপুরে ২৭ ইনিংস খেলেছেন। কিন্তু ফিফটি ছোঁয়া ইনিংস ছিল না একটিও। চল্লিশের ঘরে আউট হয়েছেন চারবার। আজও নাটকীয়ভাবে পেলেন মাইলফলকের দেখা। পায়ে ক্র্যাম্প করায় মাঠ থেকে উঠে যেতে বাধ্য হন। তখন তার নামের পাশে অপরাজিত ৪৮ রান। আবার ক্রিজে ফিরতে পারবেন কিনা সেই নিশ্চয়তা ছিল না। শেখ মাহেদী সেই সুযোগ করে দেন। যখন ক্রিজে আসেন তখন ইনিংস শেষ হতে বাকি মাত্র ৮ বল। ভাগ্য পাশে থাকায় বাকি সময়টুকুতে মিরপুরে প্রথম ও সব মিলিয়ে ১৪তম ফিফটি তুলে নেন।

এর আগে টস জিতে ব‌্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। মিরাজের পরিবর্তে এই ম‌্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সৌম্য সরকার ২ ও তানজিদ ১৯ রানে থেমে যান। অধিনায়ক নাজমুল বেশিদূর যেতে পারেননি। ২৪ রানে থেমে যায় তার ইনিংস।

সেখান থেকে লিটনের ঝলমলে ৫৮, তাওহীদের দায়িত্বশীল ৮৩ ও মোসাদ্দেকের অপরাজিত ৫৬ রানে বাংলাদেশ ভালো পুঁজি পেয়েছে। তাওহীদের সেঞ্চুরির সুযোগ ছিল। ৮৮ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ইনিংসটি সাজান। এরপর দারউসের বলে ক‌্যারির হাতে ক‌্যাচ দেন। মোসাদ্দেক ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৫১ বলে করেন ৫৬ রান।

ফেরার সিরিজে মোসাদ্দেক সর্বোচ্চ ১৫৭ রান করেছেন। বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা নির্বাচিত হন তিনি।

দুই দল এখন তিন ম‌্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে। চট্টগ্রামে তিনটি টি-টোয়েন্টি হবে যথাক্রমে ১৭, ১৯ ও ২১ জুন।

ঢাকা/ইয়াসিন/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়