ঢাকা     রোববার   ১৪ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩৩ || ২৯ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মাদক কারবারির আস্তানা কুঁড়েঘরে এসি-সিসি ক্যামেরা 

নোয়াখালী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৩৫, ১৪ জুন ২০২৬  
মাদক কারবারির আস্তানা কুঁড়েঘরে এসি-সিসি ক্যামেরা 

এই কুঁড়েঘরে এসি-ক্যামেরা লাগিয়েছেন ববিতা।

বাইরে থেকে দেখা যায় একটি সাধারণ ঝুপড়ি ঘর। পলিথিন দিয়ে ঢাকা ঘরের দুই পাশ। তবে ভেতরে প্রবেশ করলেই মিলবে ভিন্ন চিত্র। নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামের বেদে পল্লীতে সরকারি খাস জায়গায় গড়ে তোলা একটি কুঁড়েঘরে চলছে রাজকীয় জীবনযাপন। সেখানে স্থাপন করা হয়েছে এয়ারকন্ডিশনার (এসি)। আস্তানাজুড়ে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা।

আরো পড়ুন:

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই আস্তানার হোতা ববিতা আক্তার সুমাইয়া (৩৫)। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, এক সময় আওয়ামী লীগের নেতাদের সহযোগিতায় মাদক কারবার শুরু করলেও বর্তমানে বিএনপির কিছু নেতার আশ্রয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। চাটখিল থানা পুলিশ কয়েক দফায় তাকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালেও জামিনে বের হয়ে পুনরায় একই কারবারে জড়িয়ে পড়েন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্রেতাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য আস্তানার চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। প্রযুক্তির এই অপব্যবহারের মাধ্যমে বেদে পল্লী থেকে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হওয়ায় চাটখিলের ছাত্র ও যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। তারা এই মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।

চাটখিল পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বি কে হানিফ বলেন, একজন মাদক কারবারির কাছে পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় মানুষ সবাই অসহায়। পুলিশ বা বহিরাগত কারো উপস্থিতি টের পেলে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবেঁধে বের হয়ে আসে। ববিতার এত ক্ষমতার উৎস খুঁজে বের করা দরকার। যারা তাকে পেছন থেকে সহযোগিতা করছেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ববিতার বিরুদ্ধে থানায় সাতটি মাদক মামলা রয়েছে। এ পর্যন্ত ছয়বার তিনি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। তবে প্রতিবারই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তাকে আটক করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয়রা হামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার ববিতার মুঠোফোনে কল করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ওই নারী মাদক কারবারি। তাকে বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার করা হয়। জামিন নিয়ে বের হয়ে যায়।  তবে তার এমন বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিষয়টি পুলিশের জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

ঢাকা/সুজন/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়