ঢাকা     রোববার   ১৪ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩৩ || ২৯ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

প্রস্তাবিত বাজেট বিনিয়োগকারীদের জন্য সুফল বয়ে আনবে: সিএসই

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫৪, ১৪ জুন ২০২৬  
প্রস্তাবিত বাজেট বিনিয়োগকারীদের জন্য সুফল বয়ে আনবে: সিএসই

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য বিবেচিত বিষয়গুলো পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সবার জন্য, বিশেষ করে বিনিয়োগকারিদের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

আরো পড়ুন:

রবিবার (১৪ জুন) চট্টগ্রামে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান এ কথা বলেন। সিএসই’র পিআরডি বিভাগের কর্মকর্তা তানিয়া বেগমের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  

সংবাদ সম্মেলনে সিএসইর পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম, শাহজাদা মাহমুদ চৌধুরী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদারসহ সিএসইর অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, “অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছেন। প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অত্যন্ত সময়োপযোগী, সাহসী এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ বলে আমরা মনে করছি।”

তিনি বলেন, “চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে দেশের পুঁজিবাজারের আধুনিকায়ন, গভীরতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। জাতীয় বাজেটে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রণোদনা, সংস্কারমূলক পদক্ষেপ, বাজার অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্রুততর স্যাটেলমেন্ট ব্যবস্থা, নতুন আর্থিক পণ্য ও ইন্সট্রুমেন্টের তালিকাভুক্তি, বিনিয়োগকারীর সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ সহজ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুঁজিবাজার সংক্রান্ত নীতিকৌশল বাজেট কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যার জন্য চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ ও সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করে আসছিল। এটি স্পষ্ট যে, এবারের বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকগণ চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের বাস্তবসম্মত এবং দূরদর্শী প্রস্তাবনাগুলোকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে সিএসই যে সংস্কারের বীজ বুনে আসছিল, এই বাজেট যেন তারই একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি। এজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

ঘোষিত বাজেটে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রণোদনা এবং সিএসই প্রস্তুতিমূলক অবস্থান তুলে ধরেছে। 

কমোডিটি এক্সচেঞ্জ: সিএসই’র দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রগতি
বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। দেশে বর্তমানে এমন কোনো সংগঠিত, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কমোডিটি মার্কেট গড়ে ওঠেনি, যেখানে পণ্যের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ মূল্য সম্পর্কে কার্যকর বাজারভিত্তিক নির্দেশনা পাওয়া যায়। আমরা অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, সরকার বিদ্যমান লাইসেন্স সক্রিয়করণ, প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই যে, চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ ইতোমধ্যে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মসহ চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই বাজার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে আসছি। জাতীয় বাজেটে এ খাতকে গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং উৎসাহব্যঞ্জক।

পণ্যের বৈচিত্রায়ন
আমরা আনন্দের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, বাজেটে কমোডিটি এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি ইটিএফএস, ইনডেক্স হেজিং এবং কারেন্সি হেজিং ইন্সস্ট্রুমেন্টসের সম্ভাবনাও পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সরকার বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে কেবল শেয়ার লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ, বহুমাত্রিক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেট ইকোসিস্টেম হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

সিএসই এর আধুনিক ট্রেডিং ইঞ্জিন যেকোনো ধরনের ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজ, গ্রিন বন্ড, সুকুক, ইনডেক্স ডেরিভেটিভস এবং ইকুইটি ডেরিভেটিভস লেনদেনের জন্য সম্পূর্ণ উপযোগী এবং প্রস্তুত।

ডিজিটালাইজেশন ও প্রযুক্তিগত সংস্কার
আইপিও প্রক্রিয়াকে সময়নির্ধারিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের দিকে এগিয়ে নেবে। আবেদন, যাচাই, ফি পরিশোধ, অনুমোদন এবং তথ্য আদান-প্রদানের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হলে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং জবাবদিহিতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

আমরা বিশেষভাবে স্বাগত জানাই একটি সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগকে, যেখানে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান, ইস্যু ম্যানেজার, স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো একটি একীভূত প্ল্যাটফর্মে কাজ করবে। এটি বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেট অবকাঠামোর মধ্যে একটি বড় ধরনের রূপান্তর ঘটাবে।

প্রযুক্তির দিক থেকে সিএসই সব সময়ই দেশের পুঁজিবাজারে প্রথম সারির উদ্ভাবক। এই প্রসঙ্গে আমরা আমাদের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অবদান কৃতজ্ঞতা সহকারে স্মরণ করছি। বর্তমানে সিএসই অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সুরক্ষিত অটোমেটেড সার্ভিলেন্স সিস্টেম এবং ক্লাউড রেডি আইটি অবকাঠামো ব্যবহার করছে। সরকারের ডিজিটাল সংস্কার এজেন্ডার সাথে তাল মিলিয়ে রিয়েল-টাইম ডেটা শেয়ারিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে সিএসই’র কারিগরি দল সম্পূর্ণ সক্ষম।

লেনদেন নিষ্পত্তির আধুনিকায়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধি
আমরা বিশেষভাবে লক্ষ করেছি যে, সরকার শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা বর্তমান টি প্লাস টু থেকে ধাপে ধাপে টি প্লাস জিরো পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বাজারের তারল্য বৃদ্ধি পাবে, মূলধনের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং বাংলাদেশের বাজার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আরও কাছাকাছি পৌঁছাবে।

লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন এবং সেটেলমেন্ট সাইকেল ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য সিএসই কাজ করে যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা উল্লেখ করতে চাই যে, বিশ্বের অন্যান্য পুঁজিবাজারের ন্যায় আমরা ট্রেড ফর ট্রেড সেটেলমেন্টের বিকল্প হিসেবে ইনট্রা ডে সেটেলমেন্ট প্রক্রিয়া চালু করতে প্রস্তুত।

মূলধন সংগ্রহ ও তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সহজীকরণ
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল। একটি টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ বিনিয়োগ ব্যবস্থার জন্য শক্তিশালী পুঁজিবাজার অপরিহার্য। এবারের বাজেটে সেই বাস্তবতাকেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। পেনশন ফান্ড, বীমা কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড এবং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির অধিকতর অংশগ্রহণ বাজারে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন প্রবাহ নিশ্চিত করবে এবং বাজারকে স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতা থেকে সুরক্ষা দেবে।

আমরা বিশেষভাবে উৎসাহিত যে, সরকার বন্ড মার্কেট উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েছে। কর্পোরেট বন্ড, সুকুক, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড এবং পৌর বন্ডের বিকাশ দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এটি অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন করবে বলে আমরা আশা করছি। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নগরায়ন এবং শিল্পায়নের জন্য একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট অপরিহার্য।

চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ বিশ্বাস করে, বাজেটে ঘোষিত এসব সংস্কার কার্যকর ও সময়োপযোগী বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পরিণত হবে। সিএসই এই লক্ষ্যে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। 

ঢাকা/নাজমুল/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়