ঢাকা     শুক্রবার   ১২ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৯ ১৪৩৩ || ২৬ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বিশ্বকাপের রঙে রঙিন সিলেট, জার্সি-পতাকায় জমে উঠেছে উৎসব

সিলেট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৩৮, ১২ জুন ২০২৬  
বিশ্বকাপের রঙে রঙিন সিলেট, জার্সি-পতাকায় জমে উঠেছে উৎসব

প্রিয় দলকে সমর্থনে সিলেটের ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে জার্সি কিনছে কিশোর।

ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে সিলেট এখন এক ভিন্ন আবহে রঙিন। নগর থেকে গ্রাম সবখানেই ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বকাপের উন্মাদনা। প্রিয় দলকে ঘিরে সমর্থকদের প্রস্তুতি, আলোচনা আর আয়োজন যেন এক অনানুষ্ঠানিক উৎসবে রূপ নিয়েছে। কোথাও বাসার ছাদে উড়ছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকা, কোথাও আবার দেয়ালজুড়ে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন দেশের রঙিন প্রতীক। ফুটবল যেন পুরো সিলেটকে এক সুতোয় বেঁধেছে।

আরো পড়ুন:

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, এমসি কলেজসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, সুবিদবাজার, টিলাগড়, উপশহর, মদিনা মার্কেট, বাগবাড়ি, কুমারপাড়াসহ প্রায় সব এলাকায়ই বিশ্বকাপের ছোঁয়া লেগেছে। প্রতিটি অলিগলিতে ঝুলছে নানা দেশের পতাকা। কোনো বাসার বারান্দায় আর্জেন্টিনার নীল-সাদা, আবার কোথাও ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ রঙে সাজানো হয়েছে পুরো ভবন।

বিশ্বকাপকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে ক্রীড়াসামগ্রীর দোকান ও অস্থায়ী স্টলগুলোতে। ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় মার্কেট সব জায়গায়ই জমে উঠেছে জার্সি, পতাকা, ক্যাপ, ব্যাজ ও ফুটবল সরঞ্জামের বেচাকেনা। দোকানিরা জানান, এবার বিশ্বকাপ সামনে রেখে বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির চাহিদা এতটাই বেশি যে, অনেক সময় মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি পর্তুগাল, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের জার্সিও ভালো বিক্রি হচ্ছে।

দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। অনেকেই বন্ধু বা পরিবারের জন্য দলভিত্তিক জার্সি কিনছেন, আবার কেউ কেউ বাসা বা দোকান সাজাতে পতাকা সংগ্রহ করছেন। বিক্রেতারা বলছেন, বিশ্বকাপ এলে সিলেটের বাজারে এমন চিত্র নতুন নয়, তবে, এবার আগের তুলনায় উন্মাদনা আরো বেশি।

শুধু জার্সি-পতাকাই নয়, বিশ্বকাপকে ঘিরে টেলিভিশনের দোকানগুলোতেও ব্যস্ততা বেড়েছে। নতুন টিভি কেনার পাশাপাশি অনেকেই পুরোনো টিভি মেরামত করছেন, যাতে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে খেলা উপভোগ করা যায়। কিছু এলাকায় বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে স্থানীয়ভাবে সমর্থকেরা একত্র হয়ে ম্যাচ উপভোগ করছেন।

দোকানের বাইরে সমর্থকদের টাঙানো জাপান, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন ও জার্মানির পতাকা


নগরের শাহপরান এলাকা বাসিন্দা হুমায়ুন আহমেদ বলেন, ‍“বিশ্বকাপ মানেই আমাদের জন্য আলাদা এক আনন্দ। ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনা সমর্থন করি। এবারো ছাদে পতাকা তুলেছি। খেলা ঘিরে যে উচ্ছ্বাস শুরু হয়েছে, তা সত্যিই অসাধারণ, বিশ্বকাপ এলেই একটি অন্যরকমের উম্মাদনা কাজ করে।”

আম্বরখানার বাসিন্দা শাকিল আহমদ বলেন, “আমি ব্রাজিল সমর্থক। বিশ্বকাপ এলেই একটা অন্যরকম আবেগ কাজ করে। বাসার ছাদে প্রজেক্টরের সাহায্যের বন্ধু পরিবার-পরিজন নিয়ে খেলা দেখার পরিকল্পনা করেছি। এবার বিশ্বকাপ ব্রাজিলের ঘরেই যাবে।”

এদিকে, বিশ্বকাপ ফুটবল আসলেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে সব সময়ই অন্যরকম একটা আবেগ ও উদ্দীপনা কাজ করে। যার জন্য বিশ্বকাপ ঘিরে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, “এবার শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে খেলা উপভোগ করতে পারে, সে জন্য ছয়টি আবাসিক হলে বড় পর্দায় ম্যাচ দেখানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

সিলেট সিটি করপোরেশনও নগরজুড়ে বিশ্বকাপ উপভোগের ব্যবস্থা নিয়েছে। নগরবাসী যেনো একসঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পারে সেজন্য প্রশাসকের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে এলইডি স্ক্রিনে খেলা দেখানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সিটি প্রশাসন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে সিলেট নগরবাসীর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এলইডি মনিটরের ব্যবস্থা করা হবে। এর মাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীরা সারা রাত খেলা উপভোগ করতে পারবেন।”

ঢাকা/রাহাত/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়