বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমন্বিত নৌপরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হচ্ছে
বৃহস্পতিবার বিকেলে বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল, পতেংগা কন্টেইনার টার্মিনাল ও লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল বাস্তবায়ন এবং আধুনিক নৌবন্দর অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমন্বিত নৌপরিবহন ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি একথা জানান।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নৌপরিবহন খাতকে আধুনিক, টেকসই ও আয় মানসম্পন্ন পর্যায়ে উন্নীত করতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ড্রেজিং কার্যক্রম জোরদারকরণ এবং ডিজিটাল ও অটোমেশন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।
নৌপরিবহন খাতের উন্নয়নে সরকার বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সমুদ্র ও স্থল বন্দরসমূহের অবকাঠামো উন্নয়ন, কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও নির্বিঘ্ন নৌপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দেশের মোট আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯৫ শতাংশ চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় বন্দরসমূহের আধুনিকায়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট নিরসনে দ্রুত খালাস কার্যক্রম, ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং জাহাজ পরিচালনায় সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।”
তিনি জানান, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন, জেটি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সরকারের চলতি মেয়াদে নৌপরিবহন খাতে সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে। এ লক্ষ্যে চ্যানেলের নাব্যতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে ড্রেজিং ও খনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগে অভ্যন্তরীণ নৌরুটসমূহ সচল রাখতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জরুরি ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
পাশাপাশি পায়রা ও মোংলা বন্দরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, স্থলবন্দর সম্প্রসারণ, নদীবন্দর ও লঞ্চঘাট আধুনিকায়ন এবং নৌপথে নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি সঞ্চার করা হবে। একই সঙ্গে নৌযান নিবন্ধন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, নাবিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে খাতটির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
ঢাকা/নঈমুদ্দীন/মাসুদ
যুদ্ধ শেষ, ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত: ট্রাম্প