ডাকাতির পর মা-মেয়েকে ধর্ষণ: দুই আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি
কক্সবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
গ্রেপ্তার আসামিদের একাংশ (মাঝে)
কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলায় ডাকাতির পর এক নারী ও তার ১৫ বছর বয়সী মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় মোট পাঁচ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
বুধবার (১০ জুন) কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আসামি মো. তারেক ও মেহেদী হাসান ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই আদালত অপর তিন আসামি কেফায়েত হোসেন, মো. তানজিদ ও তোফাজ্জল হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আরো পড়ুন: কক্সবাজারে দুর্ধর্ষ ডাকাতি ও মা-মেয়েকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকরিয়া থানার পরিদর্শক মো. মাসুদ রাইজিংবিডিকে এ তথ্য জানান।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, ভুক্তভোগী নারী বুধবার ভোরে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন।
তিনি বলেন, “মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে পুলিশ ছয়জনকে আটক করে। পরে তাদের মধ্যে পাঁচজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। ভুক্তভোগীরা গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে চারজনকে শনাক্ত করেছেন।”
ওসি মনির হোসেন জানান, আটক রেজাউল করিমকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। পরে আদালতে হাজির করার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্য। তাদের মধ্যে কয়েকজন এর আগেও ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছিলেন। জামিনে মুক্ত হয়ে তারা আবারো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, ভুক্তভোগী মা ও মেয়েকে মঙ্গলবার হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. মাসুদ জানান, মঙ্গলবার ভোরে একদল ডাকাত জানালার গ্রিল কেটে বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে। এরপর ডাকাতরা বাড়ির নারী ও তার কিশোরী মেয়েকে মারধর করে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
ঢাকা/তারেকুর/মাসুদ