ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১১ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৮ ১৪৩৩ || ২৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

১১ দলীয় জোটে ভাঙনের সুর, ইসলামপন্থী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

রায়হান হোসেন  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২৩, ১০ জুন ২০২৬   আপডেট: ২২:৪৩, ১০ জুন ২০২৬
১১ দলীয় জোটে ভাঙনের সুর, ইসলামপন্থী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসলামপন্থী, ডানপন্থী ও সংস্কারপন্থী দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের সৃষ্টি হয়েছিল। ভোটের বিভাজন রোধ এবং নতুন বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বিকল্প তৈরির লক্ষ্যে জন্ম নিয়েছিল ‘এগারো দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসন বণ্টন নিয়ে শুরু হওয়া অসন্তোষ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এসে এখন রূপ নিয়েছে প্রকাশ্য বিরোধে। 

‘এক বাক্স নীতি’ ও আদর্শিক ঐক্যের যে প্রাচীর গড়ার স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, একের পর এক শরিক দলের জোটত্যাগের গুঞ্জনে তা এখন খাদের কিনারায়। ১১ দলীয় জোট কি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে, নাকি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের আরেকটি স্বল্পস্থায়ী নির্বাচনী জোটের তালিকায় নাম লেখাবে, তা এখন দেশের রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ভেঙে পড়া রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনে ইসলামপন্থী দলগুলো একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম গড়ার উদ্যোগ নেয়। প্রথমে ‘সমমনা আট দল’ হিসেবে যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে সংস্কারপন্থী ও অন্যান্য ডান ঘরানার শক্তি একত্রিত হয়ে এটি ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে’ রূপ নেয়। তবে নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে প্রথম ও সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে জোটের অন্যতম প্রধান শক্তি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর মাধ্যমে। আসন বণ্টন নিয়ে মতবিরোধের জেরে তারা জোট বর্জন করে ২৬৮টি আসনে এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়। যদিও শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ লেবার পার্টি জোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কাগজে-কলমে ‘এগারো দল’ বজায় থাকে, কিন্তু মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক শক্তিতে যে বড় ধরনের ফাটল ধরেছিল, তা আর জোড়া লাগেনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের আসন বণ্টনের পরিসংখ্যানই মূলত অভ্যন্তরীণ বৈষম্যের চিত্রটি স্পষ্ট করে দেয়। জোটের প্রধান দল জামায়াতে ইসলামী একাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২২৪ আসনে। অন্যদিকে, জোটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যারা ৩০ আসনে লড়ে নির্বাচনে ৬টি আসন লাভ করে। জোট থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছিল ২৩টি আসন, তারা জয় পায় ২টি আসনে এবং খেলাফত মজলিস ১৩টি আসন পেলেও জয় পায় ১টি আসনে। 

তবে অন্যান্য ছোট শরিকদের ভাগ্যে জোটে নামমাত্র আসন বা কেবল মৌখিক আশ্বাস মেলে। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মতো শরিকদের জন্য শেষ পর্যন্ত কোনো আসনই নির্দিষ্ট করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতাদের অভিযোগ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা ১০টি আসন চেয়েও পাননি এবং জোটের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। ফলে এই বিশাল ব্যবধান ছোট দলগুলোর মধ্যে তীব্র বঞ্চনা এবং ‘সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার’ এক ক্ষুব্ধ মনস্তত্ত্ব তৈরি করে, যা নির্বাচনের পর আরও প্রকট রূপ ধারণ করেছে।

নির্বাচন শেষ হওয়ার পর জোটের অভ্যন্তরীণ ফাটল এখন আর রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জোটের মধ্যে থেকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের বেরিয়ে যাওয়ার জোরালো গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। দলটির শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ, জোট পরিচালনায় কোনো অংশীদারিত্বমূলক সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। বরং জামায়াতের একক আধিপত্য ও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতাই ছিল মুখ্য। দলটির একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচনের সময় থেকেই তারা জোটের কার্যক্রম থেকে এক প্রকার নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এই জোটে থাকা আত্মমর্যাদার পরিপন্থী। তাই অনেক শীর্ষ নেতা মনে করছেন, নামের এই জোট থেকে কোনো লাভ নেই, আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়াই উত্তম। 

তবে জোটের এই টানাপোড়েন ও অবস্থানের বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজি। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, ‘‘আমরা তো ১১ দলের সাথে জোট করিনি। আগে একটা সমঝোতা হওয়ার কথা ছিল। জোট আমাদের সাথে হয়নি। আমরা আলাদা নির্বাচন করছি ১০ টি আসনে।’’

খেলাফত আন্দোলনের জোট থেকে বিদায়ের গুঞ্জন অবশিষ্ট দলগুলোর মধ্যেও এক ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই সংকটের মূল ভিত্তি কেবল নির্বাচনী আসন সংখ্যা নয়। জোটের অধিকাংশ শরিক দল মনে করে, জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক ও আর্থিক শক্তি বেশি থাকলেও জোটের অন্য শরিকদের সমান অংশীদার বা ‘পার্টনার’ হিসেবে গণ্য করা হয়নি। এছাড়া খেলাফত ও নেজামে ইসলামের মতো খেলাফত শাসনতন্ত্রে বিশ্বাসী দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের মওদুদী ঘরানার আদর্শিক পার্থক্য বরাবরই ছিল। নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার কৌশল হিসেবে এই আদর্শিক ফারাককে ধামাচাপা দেওয়া হলেও, ক্ষমতার সুষম বণ্টন না হওয়ায় তা এখন আরও বড় সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দল ত্যাগ বা জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাইলে ১১ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, ‘‘এ ব্যাপারে খেলাফত আন্দোলনের কোনো নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমার সরাসরি কথা হয়নি। তবে ফেসবুক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, তারা এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। যদিও জোটের শেষ পর্যায়ে তাদের সক্রিয়তা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এখন তারা ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব দলীয় বিষয়। আমরা মনে করি, প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব বিবেচনায় ভালো মন্দ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে।’’

নিজেদের দল জোটে থাকবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিভিন্ন দলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন করেছি এবং এখনো বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন ও কর্মসূচিতে একসঙ্গে কাজ করছি। প্রতিটি দলের সিদ্ধান্ত তাদের নির্বাহী কমিটি ও শুরা বা নীতিনির্ধারণী ফোরামের মাধ্যমে গৃহীত হয়। আমাদের দলও একই প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেয়। তাই ভবিষ্যতে কোনো দল জোটে থাকবে কি থাকবে না এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে এ পর্যন্ত কোনো দল আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ত্যাগের ঘোষণা দেয়নি।’’

মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, ‘‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিন্ন ব্যানারে রাজনীতি করলেও আমাদের মধ্যে আদর্শিক ও ইস্যুভিত্তিক ঐক্য বজায় থাকতে পারে। আমরা হয়তো একই মঞ্চে বা একই ব্যানারে থাকব না, কিন্তু জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের বক্তব্য ও অবস্থান এক ও অভিন্ন থাকতে পারে।’’

এবিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, ‘‘তারা এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আমাদের কিছু জানায়নি। আমাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আছে এবং বিভাগীয় কর্মসূচিতে তারা অংশ নিচ্ছে। তারা জানালে আমরা সবাই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। তখন আপনাদের জানানো হবে।’’

বর্তমানে এই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে এনসিপি ও দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এনসিপি এখনো জোটের পক্ষে তাদের সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নের তাগিদ দিচ্ছে এবং জামায়াতের নেতৃত্বে জোটটি রাজপথে কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। জোটের প্রাসঙ্গিকতা ও বর্তমান প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, ‘‘২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে হয়েছিল তা এখনো অর্জিত হয়নি। ১১ দলীয় ঐক্য এখন গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের জন্য তিন মাসের বিভাগীয় কর্মসূচি ঘোষিত আছে, যেগুলো ধারাবাহিক বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর শেষে ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। বিচার ও সংস্কার ইস্যুতে একসঙ্গে বেশ কিছু যৌথ কর্মসূচি করা হয়েছে ঢাকায়। ফলে ১১ দলীয় ঐক্যের ভবিষ্যতে কি হবে তা সময়ই বলে দেবে।’’

রাজনীতি সমালোচকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোট গঠন এবং নির্বাচন শেষে তা ভেঙে যাওয়া কোনো নতুন ঘটনা নয়। তবে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ইসলামপন্থী রাজনীতির যে ‘নতুন সমীকরণ’ তৈরির স্বপ্ন এগারো দলীয় জোট দেখিয়েছিল, পারস্পরিক অবিশ্বাস, একক আধিপত্য ও আসন দ্বন্দ্বের চোরাবালিতে পড়ে তা আজ চরম বাস্তবতার মুখোমুখি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি শরিকদের ক্ষোভ প্রশমন করে নতুন কোনো রাজনৈতিক বোঝাপড়া তৈরি করা না যায়, তবে জামায়াত ও এনসিপি-নির্ভর এই জোটটি একসময় কেবল নামসর্বস্ব জোটে পরিণত হতে পারে। আর এই ভাঙনের ধারা অব্যাহত থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের ইসলামপন্থী ও ডানপন্থী দলগুলোর বৃহত্তর রাজনৈতিক মোর্চা গঠনের সম্ভাবনাকে আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেবে।

১১ দলীয় ঐক্য জোট সম্পর্কে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আবদুল লতিফ মাসুম রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। বিশেষ করে নির্বাচনকে সামনে রেখে কিংবা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ফলাফল ও রাজনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের পুনর্বিন্যাস দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ব্যতিক্রমধর্মী সমীকরণ গড়ে উঠেছিল, যেখানে একদিকে ছিল ইসলামপন্থী শক্তি, অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী শক্তি। জাতীয়তাবাদী শক্তির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ১১ দলীয় জোটভুক্ত অনেক ছোট দল কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। রাজনৈতিকভাবে তাদের করণীয় সীমিত হয়ে যাওয়ায় তারা ক্ষমতাসীন পক্ষের দিকে ঝুঁকতে চাইতে পারে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় অস্বাভাবিক নয়।’’

ড. আবদুল লতিফ মাসুমের মতে, এই জোটে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি ছাড়া অধিকাংশ দলই তুলনামূলক ছোট হওয়ায় তারা উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ভূমিকা রাখতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) তো আগেই এই জোট থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। সে কারণে এটিকে এখন আর প্রকৃত অর্থে ‘১১ দলীয় জোট’ বলা কঠিন। এসব দলের নিজস্ব রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে। অতীতেও দেখা গেছে, তারা অনেক ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থান গ্রহণ করেছে। জনগণের একটি অংশের ধারণা, এসব দল এখনও সেই সুবিধাজনক অবস্থান ধরে রাখতে আগ্রহী।’’ 

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বিবেচনায় তাদের অবস্থান পরিবর্তনও অস্বাভাবিক নয় উল্লেখ করে আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, ‘‘এনসিপি ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি যদি একসঙ্গে রাজনৈতিকভাবে এগোতে পারে, তাহলে তাদের জন্য সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই; যে কোনো সময় নতুন সমীকরণ সৃষ্টি হতে পারে।’’

এই রাজনীতি বিশ্লেষক বলেন, জামায়াতে ইসলামী যদি কোনো কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়ে এবং এনসিপির নেতৃত্বে নতুন কোনো জোট বা রাজনৈতিক মেরুকরণ গড়ে ওঠে, সেটিও বিস্ময়কর হবে না।

তার মতে, ১১ দলীয় জোটে ভাঙনের যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন নয়। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তিগুলো প্রায়ই ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ বা ‘ভাগ করো এবং শাসন করো’ কৌশল অনুসরণ করে থাকে। ব্রিটিশ আমল থেকেই এ নীতির চর্চা দেখা যায়। বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে এবং বিএনপির জন্যও একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ফলে ক্ষমতাসীন পক্ষ স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইবে। সে লক্ষ্যে ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলোকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, প্রণোদনা বা রাজনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করা হতে পারে বলে জানান তিনি।  

ঢাকা/তারা//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়