ঢাকা     বুধবার   ১০ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৭ ১৪৩৩ || ২৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে ৮ প্রস্তাব দিল ডিবিএ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৫৩, ১০ জুন ২০২৬  
গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে ৮ প্রস্তাব দিল ডিবিএ

দেশের পুঁজিবাজার, ব্যাংকিং খাত ও সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) বৈঠক করেছে। বৈঠকে ডিবিএ’র পক্ষ থেকে ৮টি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়।

বুধবার (১০ জুন) বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠি হয়।

বৈঠকে ডিবিএ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয় সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম। বৈঠকে দেশের বর্তমান পুঁজিবাজার পরিস্থিতি, ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে ডিবিএ’র পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিকট একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাবনা দেওয়া হয়।  

ডিবিএ মনে করে, করদাতার অর্থ ব্যবহার করে বারবার ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়। তাই বাজারভিত্তিক বিনিয়োগ, একীভূতকরণ ও বেসরকারি অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।

ডিবিএ’র মতে, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু ব্যাংক ঋণের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি বাড়ছে। বন্ড ও ইক্যুইটির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হলে পুঁজিবাজার শক্তিশালী হবে এবং ব্যাংকের উপর চাপ কমবে।

সরকারি সিকিউরিটিজে সাধারণ বিনিয়োগকারী, ব্রোকার ও নন-পিডি ব্যাংকের অংশগ্রহণ বাড়ানো হলে বাজারে তারল্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে বলেও ডিবিএ মনে করে। 

আয়কর আইন ও মূলধন সংরক্ষণ নীতির অসামঞ্জস্য দূরীকরণে ডিবিএ’র বক্তব্য, রিটেইনড আর্নিংস ও স্টক ডিভিডেন্ডের উপর অতিরিক্ত কর আরোপ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূলধন শক্তিশালীকরণে বাধা সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

বন্ড খেলাপি তথ্য সিআইবিতে অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে ডিবিএর ভাষ্য, বন্ড খেলাপিদের তথ্য সিআইবিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে এবং খেলাপি সংস্কৃতি হ্রাস পাবে।

ডিবিএ’র মতে, শেয়ারবাজারে টি+১ সেটেলমেন্ট চালু হলে লেনদেনের ঝুঁকি কমবে, বিনিয়োগকারীদের অর্থ দ্রুত পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সাথে দেশের বাজারের সামঞ্জস্য বৃদ্ধি পাবে।

একইসঙ্গে ডিবিএ মনে করে, দেশীয় সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম চালু হলে আন্তর্জাতিক গেটওয়ের উপর নির্ভরতা কমবে, লেনদেন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি পাবে।

ডিবিএর মতে, ওপেন-এন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বৃদ্ধি করা হলে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়বে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ও তারল্য বৃদ্ধি পাবে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ডিবিএ’র প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস প্রদান করেন এবং দেশের আর্থিক খাতের উন্নয়নে সকল অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম দেশের আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ইতিবাচক নেতৃত্ব এবং গৃহীত সংস্কারমূলক উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, সংস্কার ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

ঢাকা/নাজমুল//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়