ঢাকা     বুধবার   ১০ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৭ ১৪৩৩ || ২৪ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

অজান্তেই বেশি খাচ্ছেন? অভ্যাস বদলাতে মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:১৫, ১০ জুন ২০২৬   আপডেট: ০৯:১৮, ১০ জুন ২০২৬
অজান্তেই বেশি খাচ্ছেন? অভ্যাস বদলাতে মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ জেনে নিন

ছবি: প্রতীকী

খাবারের প্রতি আমাদের আকর্ষণ কার নেই? এই আকর্ষণ কেবল স্বাদের ওপর নির্ভর করে না; এর প্যাকেজিং, পরিবেশন, অবস্থান এমনকি আশপাশের পরিবেশও আমাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। কিছু সহজ কৌশল অনুসরণ করলে অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমিয়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব।

আরো পড়ুন:

বেশি খাবার খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করার উপায় জানিয়েছেন মনোবিজ্ঞানী স্পেন্স।তার মতে, ঘরে বিস্কুট বা অন্যান্য মিষ্টি খাবার যদি উজ্জ্বল রঙের মোড়কে থাকে, তাহলে সেগুলো স্বচ্ছ পাত্রে না রেখে অস্বচ্ছ জারে সংরক্ষণ করা ভালো। এতে রঙিন প্যাকেজিংয়ের প্রলোভন চোখে পড়ে না এবং অপ্রয়োজনীয় নাশতা খাওয়ার ইচ্ছাও কমে।

তাকের নিচে-ওপরে তাকান, শুধু চোখের সমতলে নয়
সুপারমার্কেটগুলো সাধারণত চোখের সমতলে দামি পণ্য এবং চেকআউট কাউন্টারের কাছে লোভনীয় স্ন্যাকস রাখে। কারণ মানুষ সহজে হাতের কাছে থাকা জিনিসই বেছে নিতে অভ্যস্ত—যাকে বলা হয়। ফলে অনেক সময় পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে চকলেট, ক্যান্ডি বা অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর খাবার কিনে ফেলা হয়। তাই কেনাকাটার সময় শুধু চোখের সমতলের তাক নয়, নিচের বা উপরের তাকেও নজর দিন। সেখানে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর বিকল্প লুকিয়ে থাকতে পারে।

ভারী বাটি বা বাসন ব্যবহার করুন
খাবার পরিবেশনের পাত্রও আমাদের অনুভূতিতে প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভারী বাটিতে খাবার পরিবেশন করা হলে মানুষ খাওয়ার আগেই মনে করে যে তারা বেশি তৃপ্ত হবে। একইভাবে ভারী কাটলারি ব্যবহার করলেও অনেকের কাছে খাবার আরও সন্তোষজনক মনে হয়।

প্লেটকে আকর্ষণীয় করে সাজান
খাবার সুন্দরভাবে সাজিয়ে পরিবেশন করলে তা শুধু দেখতে ভালো লাগে না, খেতেও বেশি সুস্বাদু মনে হয়। এক গবেষণায় শিল্পীর ছবির মতো সাজানো সালাদ অংশগ্রহণকারীরা বেশি উপভোগ করেছেন এবং একই উপকরণের জন্য বেশি দাম দিতেও রাজি হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্লেটে বিভিন্ন রঙের শাকপাতা ও সবজি যোগ করলে খাবারের সতেজতা ও আকর্ষণ বাড়ে, ফলে স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতিও আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।

ধীরগতির গান শুনুন
খাওয়ার সময় ধীর লয়ের সঙ্গীত চালালে মানুষ ধীরে ধীরে খায়, আর ধীরে খাওয়ার ফলে সাধারণত ক্যালোরি গ্রহণও কম হয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, উচ্চ স্বরের সুর খাবারকে তুলনামূলক মিষ্টি এবং নিম্ন স্বরের সুর তুলনামূলক তেতো মনে করাতে পারে।

এ ছাড়া টেলিভিশন বা মোবাইল ফোনের মতো বিভ্রান্তিকর বিষয় এড়িয়ে খেলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ কমতে পারে। প্রকৃতির শব্দ শোনাও অনেক সময় স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব খাদ্য বেছে নিতে উৎসাহ দেয়।

প্লেটে স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিমাণ বাড়ান
খাবারের মোট পরিমাণ একই রেখে যদি কম ক্যালোরিযুক্ত কিন্তু বেশি আয়তনের খাবার—যেমন শাকসবজি, ফল বা আঁশসমৃদ্ধ উপাদান—যোগ করা যায়, তাহলে কম ক্যালোরি গ্রহণ করেও পেট ভরা অনুভূতি পাওয়া সম্ভব।

গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ সাধারণত ক্যালোরির পরিমাণ নয়, বরং খাবারের মোট পরিমাণ বা ভলিউম অনুযায়ী খাওয়ার প্রবণতা দেখায়। তাই প্লেটে স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ বাড়ানো ও উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবারের অংশ কমানো ওজন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

ঢাকা/লিপি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়