ঢাকা     বুধবার   ১০ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৭ ১৪৩৩ || ২৪ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

৬০টি কেমোথেরাপির পর লন্ডনে কেমন আছেন ইলিয়াস কাঞ্চন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:০৮, ১০ জুন ২০২৬   আপডেট: ১৭:১২, ১০ জুন ২০২৬
৬০টি কেমোথেরাপির পর লন্ডনে কেমন আছেন ইলিয়াস কাঞ্চন

বাংলা চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক, দর্শকপ্রিয় অভিনেতা এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অন্যতম মুখ ইলিয়াস কাঞ্চন এখন জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় অতিক্রম করছেন। রুপালি পর্দার ব্যস্ততা কিংবা সামাজিক আন্দোলনের কর্মচাঞ্চল্যের জায়গা দখল করেছে হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসা, ফলোআপ এবং পরিবারের সান্নিধ্য।

আরো পড়ুন:

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার পর গত বছর থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। বর্তমানে তিনি মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করতে সক্ষম হলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তী পরীক্ষায় তার ব্রেন ক্যানসার ধরা পড়ে।

অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় দীর্ঘ ও জটিল চিকিৎসা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে চলছে ওরাল থেরাপিও। পরিবার-ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় এ পর্যন্ত প্রায় ৬০টি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে। 

এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি সম্পন্ন করে বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপের তিন মাসের ওরাল থেরাপি গ্রহণ করছেন তিনি। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ।

বুধবার (১০ জুন) সকালে লিটন এরশাদ বলেন, “ইলিয়াস কাঞ্চন ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা মোটামুটি আগের মতোই রয়েছে। দৃশ্যমান কোনো উন্নতি এখনো দেখা যায়নি। বর্তমানে যে থেরাপি চলছে, তা আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এরপর চিকিৎসকেরা তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করবেন।”

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে লিটন এরশাদ জানান, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল, এখনো সেটি সেখানেই রয়েছে। তবে আশার কথা হলো, এটি শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি। চিকিৎসকদের মতে, এটিই বর্তমানে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক। দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ হলে তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চিকিৎসকরা।

তবে প্রতিদিনের জীবনযাপন এখনো সহজ নয়। লিটন এরশাদ জানান, ইলিয়াস কাঞ্চন ধীরে ধীরে কথা বলতে পারলেও কথাবার্তায় জড়তা রয়েছে। অনেক সময় কয়েক মিনিট কথা বলার পর একটি বাক্যও সম্পূর্ণ করতে পারেন না তিনি। আগের মতো সাবলীলভাবে কথা বলা তার জন্য এখনো কঠিন।

খাবার গ্রহণে বড় কোনো সমস্যা না থাকলেও নিয়মিত ও সময়মতো খাওয়ার অভ্যাসেও পরিবর্তন এসেছে। শারীরিক দুর্বলতা এবং দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়ার প্রভাব তার দৈনন্দিন জীবনে স্পষ্টভাবে পড়েছে। 

একসময় চলচ্চিত্রের শুটিং, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকা মানুষটির সময় এখন কাটছে হাসপাতালের ফলোআপ, চিকিৎসা এবং পরিবারের সঙ্গে। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিবর্তন তাকে মানসিকভাবে অস্থির করে তোলে। তবে পরিবারই হয়ে উঠেছে তার সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা।

মেয়ে, জামাতা এবং নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটিয়েই দিন পার করছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। কখনো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাওয়া, কখনো ঘরোয়া আড্ডা কিংবা নাতি-নাতনিদের সান্নিধ্য তার দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনের ক্লান্তির মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনে দিচ্ছে।

সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে হাসিমুখে তোলা ইলিয়াস কাঞ্চনের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সুস্থতার পথ এখনো দীর্ঘ। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে এগিয়ে চলছে তার চিকিৎসা, আর ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা অপেক্ষায় আছেন প্রিয় অভিনেতার সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার।

ঢাকা/রাহাত/শান্ত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়