উত্তপ্ত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক
ব্রিটিশ তরুণ হেনরি নওয়াক হত্যাকাণ্ড নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক। শুক্রবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হত্যাকাণ্ডের জন্য গণ অভিবাসনকে দায়ী করার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ গণতন্ত্রে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন হেনরি নওয়াক। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভিকরাম দিগওয়ার ছুরিকাঘাতে আহত হন নওয়াক। তবে ওই সময় ভিকরামের মিথ্যা বর্ণনার ভিত্তিতে পুলিশ উল্টো নওয়াককে হাতকড়া পরিয়ে মাটিতে ফেলে রাখে। পরবর্তীতে তার মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো ব্রিটেনে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের জন্ম দেয়।
জেডি ভ্যান্স ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে দাবি করেন যে, নওয়াক বেঁচে থাকত “যদি গত কয়েক প্রজন্মের ইউরোপীয় অভিজাতরা আত্ম-ঘৃণার রাজনীতি এবং অভিবাসীদের গণ-আক্রমণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াত, যাদের অনেকেই পশ্চিমা বিশ্ব এবং এর অনুরাগীদের ঘৃণা করে।”
এর প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়।
ডাউনিং স্ট্রিট সরাসরি ভ্যান্সের নাম উল্লেখ না করলেও বিবৃতিতে বলেছে, “সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আমরা দেখেছি কিছু লোক আমাদের গণতন্ত্রে হস্তক্ষেপ করার এবং আমাদের রাস্তায় বিভেদ উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে।”
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “হেনরির ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর নওয়াক পরিবার শোকাহত। তারা বলেছেন যে, তারা চান না তার মৃত্যুকে আরও বিভেদ, ঘৃণা বা উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করা হোক। আমাদের উচিত তাদের ইচ্ছাকে সম্মান করা। আমাদের রাজনীতি সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও মানুষকে একত্রিত করবে। একটি দেশ হিসেবে এটাই আমাদের পরিচয়।”
লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করার আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে তারা ‘বিভাজনের আগুন জ্বালানোর উদ্দেশ্যে করা নির্লজ্জ বিদেশি হস্তক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছে। দলটির নেতা এড ডেভি বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন “গোপনে নয়, বরং প্রকাশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে”।
ডেভি বলেন, “স্টারমারকে মেরুদণ্ড দেখাতে হবে এবং আজই এর প্রতিবাদ করতে হবে। আমরা আর এই নির্লজ্জ হস্তক্ষেপের প্রতি চোখ বন্ধ করে থাকতে পারি না।”
তবে, ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক “অত্যন্ত শক্তিশালী” রয়েছে। কোনো কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে তিরস্কার করা হবে কিনা, সে বিষয়ে তারা মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ঢাকা/শাহেদ
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ১৮ কি.মি যানজট