ঢাকা     শনিবার   ০৬ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪৩৩ || ২০ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সীমান্তে পুশইনের জন্য আনা ৩৩ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৪৬, ৬ জুন ২০২৬  
সীমান্তে পুশইনের জন্য আনা ৩৩ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

লালমনিরহাটের একটি সীমান্তে পুশইনের জন্য জড়ো করা নারী-পুরুষ।

লালমনিরহাটের তিনটি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের একটি বড় অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনতা। বিজিবির কঠোর অবস্থান, টহল জোরদার ও সার্বক্ষণিক নজরদারির কারণে পুশইনের জন্য আনা ৩৩ জন নারী-পুরুষকে নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ।

লালমনিরহাট ৬১ বিজিবি সহকারী পরিচালক আব্দুল রাজ্জাক মন্ডল লোকজন সরিয়ে নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে কড়া নজরদারি ও টহল জোরদার রাখা হয়েছে। 

আরো পড়ুন:

আরো পড়ুন: খাবার দেয়নি বিএসএফ, সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন বাংলাদেশিরা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১০টার পর থেকে বিএসএফ লালমনিরহাট সীমান্তের তিনটি পয়েন্টে পুশইনের জন্য জড়ো করা ৩৩ জনকে সরিয়ে নেয়।

সীমান্ত এলাকার একাধিক সূত্র জানায়, শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে লালমনিরহাটের তিনটি উপজেলার পৃথক তিন সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। এর মধ্যে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা সীমান্তে ১১ জন, পাটগ্রাম উপজেলার পয়ষট্টিবাড়ি সীমান্তে ১০ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। 

দুর্গাপুর সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর এই সন্দেহভাজন ও আগ্রাসী তৎপরতা টের পেয়ে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীদের সতর্ক করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় জনতা একজোট হয়ে সীমান্তে কঠোর অবস্থান নিলে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে যায়। 

আরো পড়ুন: লালমনিরহাট সীমান্তে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

অভিযোগ উঠেছে, পুশইন মিশনে ব্যর্থ হওয়ার পর বিএসএফ অসহায় মানুষগুলোকে চরম বৈরী পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেয়। সীমান্তের শূন্যরেখার খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজিয়ে রাখা হয় তাদের। বিএসএফের পক্ষ থেকে তাদের কোনো খাবার বা মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়নি, উল্টো নিজেদের দেশের সীমানার ভেতরেও যেতে বাধা দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর বিপরীতে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশি নাগরিকরা। রাতে সীমান্তের লাইট বন্ধ করে তাদের নিজ ভূখণ্ডে নিয়ে যায় বিএসএফ।

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা রহমান মিয়া বলেন, “সকাল হওয়ার পর দেখি কাঁটাতারের ওপাশে জিরো পয়েন্টে নারী-শিশুরা খোলা আকাশের নিচে বসে কাঁদছে। বিএসএফ তাদের ওদিকে যেতে দিচ্ছে না, খাবারও দেয়নি। একটা বাচ্চা গরমে আর না খেয়ে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। ওর কান্না দেখে আর সহ্য করতে পারিনি। পরে আমরা কয়েকজন মিলে কাঁটাতারের এপাশ থেকে ইশারায় ডেকে ওদের কিছু জরুরি ওষুধ আর বিস্কুট-পানি এগিয়ে দিয়েছি।”

হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লিটন মিয়া জানান, রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে লোকগুলো অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশের মানুষই এগিয়ে গিয়ে তাদের খাবার ও ওষুধ বিতরণ করে। রাতে সীমান্তের লাইট বন্ধ করে তাদের নিয়ে যায় বিএসএফ। তবে, ভোরে আবারো চেষ্টা করেছে তারা।

ঢাকা/সিপন/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়