ব্যক্তিগত সোনা বিক্রি করলে গুণতে হবে ১৫ শতাংশ কর
ব্যক্তিগত সোনা বিক্রির আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
ব্যক্তিমালিকানাধীন সোনার অলংকারকে এখন ব্যক্তিগত সম্পদের বদলে মূলধনি সম্পদ হিসেবে গণ্য করবে এনবিআর। ফলে এই সম্পদের বিক্রিতে এখন থেকে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বা মূলধনি মুনাফা কর দিতে হবে সরকারকে।
রবিবার (১৪ জুন) ঢাকার পল্টনে অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে অর্থ বিল নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এ কথা বলেন রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। সভায় উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের কর, শুল্ক ও ভ্যাট নীতি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
সেমিনারে সোনার অলংকারের মতো ব্যক্তিগত সম্পদকে মূলধনি সম্পদ হিসেবে গণ্য করা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআরের আয়কর নীতি বিভাগের প্রথম সচিব জাফর ইমাম এই ব্যাখ্যা দেন।
তিনি বলেন, “এই পদ্ধতিটি ইউরোপের অনেক দেশে প্রচলিত। আমরা সেই পদ্ধতিটি অনুসরণ করছি।”
তিনি বলেন, “অনেকেই রিটার্নে সোনা বা সোনার অলংকার দেখান। তবে মূল্য অজানা উল্লেখ করা হয়। এতে অনেক ফাঁকি থাকে।”
কর পরামর্শক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, “ব্যক্তি আয়করে প্রথমেই ১০ শতাংশ না রেখে ৫ শতাংশ রাখা প্রয়োজন ছিল। এতে প্রথম দিকে করতাদার ওপর চাপ কমত।”
তিনি বলেন, “ভ্যাটের তথ্য রাখতে ২৪টি কলাম পূরণ করতে হয়। এটা কমানো উচিত।”
এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, “সঞ্চয়পত্রে কোনো কর বাড়ানো হয়নি। বরং এখন থেকে এটা সমন্বয় করা হবে। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রিম কর ফেরত দিতে হবে। আমরা এটা ফেরত দেব।”
কালো টাকা সাদা করার কোন বিধান বাজেটে রাখা হয়নি বলেও নিজের বক্তৃতায় উল্লেখ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “কালোটাকা সাদা করার কোনো বিধান বাজেটে আনা হয়নি। আবাসন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দিক থেকে চাপ ছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমেই বলা হয়েছে, কালোটাকার কোনো ব্যাপার থাকবে না।”
এনবিআর চেয়ারম্যান আরো বলেন, “অর্থনীতির চাকা নতুন করে ঘোরানোর জন্য এবার ব্যাপক ছাড় দেওয়া হয়েছে। ব্যবসা বাড়লে অবশ্যই রাজস্ব আদায় বাড়বে।”
কর ফাঁকি বন্ধ করার প্রসঙ্গে মো. আবদুর রহমান খান বলেন, “কর ফাঁকি বন্ধ করতে পারলেও অনেক রাজস্ব আদায় করা যাবে। এখন সবকিছু অনলাইনে করা হচ্ছে। ফলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। এখন ঠিকমতো এডিট সিলেক্ট করা গেলে আদায় অনেক বাড়বে।”
খুচরা পর্যায় থেকে হাজারে দুই টাকা করে আদায় থেকেও একটা ভালো অংশ সংগ্রহ হবে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। করের পরিমাণ কম হওয়ায় পণ্যের দামের ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না বলেও দাবি করেন তিনি।
ঢাকা/তুহিন/ইভা