চলতি মাসে হতে পারে ঘূর্ণিঝড়
চলতি মে মাসে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। একইসঙ্গে এ মাসে তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
রবিবার (৩ মে) দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহওয়া অধিদপ্তর।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মে মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
তাছাড়া, চলতি মাসে হালকা বা মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে দুই-তিন দিন কালবৈশাখী ঝড়সহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে।
এ মাসে বাংলাদেশে এক থেকে তিনটি মৃদু বা মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে একটি তীব্র হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটির নিয়মিত সভা আজ রবিবার ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিটি বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার অনুমোদিত বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রাপ্ত মডেল পূর্বাভাস, আবহাওয়া উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়া বিন্যাস, বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের বিশ্লেষিত আবহাওয়ার মানচিত্র, জলবায়ু মডেল, এল-নিনো ও লা-নিনোর অবস্থা ইত্যাদি যথাযথ বিশ্লেষণ করে মে মাসের পূর্বাভাস জানিয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। পাঁচ থেকে আট দিন হালকা বা মাঝারি, যার মধ্যে দুই-তিন দিন কালবৈশাখী ঝড়সহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে।
এই মাসে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে। দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজ করতে পারে। তবে, বিচ্ছিন্ন ভারী বৃষ্টিপাতের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি সমতল সময় বিশেষে বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞ কমিটির নিয়মিত সভায় গত এপ্রিল মাসের আবহাওয়ার বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত পর্যালোচিত হয়। এতে দেখা যায়, এ সময় সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি (+৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত এবং বাকি বিভাগগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। পশ্চিমা লঘুচাপের সঙ্গে পূবালী বায়ুপ্রবাহের সংযোগ ঘটায় ৬ থেকে ৯ এবং ২৬ থেকে ৩০ এপ্রিল দেশের অধিকাংশ স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং মাসের অধিকাংশ দিন দেশের অনেক স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিপাত হয়। সেই সঙ্গে বজ্রপাত ও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিসহ দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এসময় সর্বোচ্চ ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত কিশোরগঞ্জের নিকলিতে রেকর্ড করা হয় ২৮ এপ্রিল।
এপ্রিল মাসের ২২ তারিখ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাজশাহীতে এবং ১০ তারিখ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাঙ্গামাটিতে রেকর্ড করা হয়। তাপমাত্রা, তাপপ্রবাহ, কালবৈশাখী ও বজ্রঝড়, কৃষি আবহাওয়া এবং দেশের নদ-নদীর অবস্থা এ সময় পূর্বাভাসের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় তাপীয় লঘুচাপ অবস্থান করায় দেশের অনেক অঞ্চলের ওপর দিয়ে ১ থেকে ৪, ১২ থেকে ১৫, ১৭ থেকে ১৯ ও ২০ থেকে ২৬ এপ্রিল মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যায়।
ঢাকা/নঈমুদ্দীন/রফিক