গৃহকর্মীকে পাশবিক নির্যাতন পুলিশ দম্পতির
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা || রাইজিংবিডি.কম
নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী।
খুলনা নগরীতে পুলিশ দম্পত্তির হাতে গৃহকর্মী ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে সোনাডাঙ্গা এলাকায় ওই দম্পতির বাসায় গরম কড়াই দিয়ে গৃহকর্মীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। জানালা দিয়ে এ দৃশ্য দেখতে পান কয়েকজন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার করা হয়।
এমন অমানবিক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেন স্থানীয়রা।
এ সময় জানালা দিয়ে দেখা যায়, গরম কড়াই চেপে ধরা হচ্ছে একটি মেয়ের মুখ ও শরীরে। যন্ত্রণায় মুখ ঘুরিয়ে নেয় সে। এরপর কান ধরে ওঠবস করানো হয় মেয়েটিকে। হাত থেকে তরকারি পড়ে যাওয়ায় গৃহকর্মীর ওপর এভাবে নির্যাতন চালায় গৃহকত্রী।
খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্ক সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী এএসআই পপি মিত্র প্রায়ই নির্যাতন করে গৃহকর্মীর ওপর। ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও দেখা যায়। তবে, অভিযোগ পেয়ে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে হেফাজতে না নিলেও মেয়েটিকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়। এতিম মেয়েটি ছোট থেকে এই বাড়িতে কাজ করেন। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলায়।
পুলিশ জানায়, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার দ্বিতীয় ফেজের ৬নং রোডের ৪১৯ নম্বর বাড়িতে ভাড়া থাকেন ওই পুলিশ দম্পতি। তাদের সন্তান দেখাশোনার জন্য পপি মিত্রের বাড়ি থেকে মিলন নামে এক এতিম কন্যাকে আনা হয়। বাবা-মা হারা এতিম মিলন গত ৫ বছর ধরে ওই দম্পতির সঙ্গে রয়েছেন। মিলন মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নারী নেত্রীরা জানান, বুধবার দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটের দিকে বাড়ির দ্বিতীয় তলার রান্নাঘর থেকে একটি চিৎকার ভেসে আসে। তখন জানালা দিয়ে দেখা যায়, এক নারীকে কানে ধরে ওঠবস করানো হচ্ছে। কিছু সময় পর একটি কড়ই তার পিঠে ও পেটে ঠেসে ধরা হচ্ছে। দ্রুত কয়েকজন ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় গেলে পপি মিত্র দরজা খুলতে চাননি। জাতীয় জরুরী সেবায় ফোন দেওয়ার পর তার স্বামী সঞ্জয় মিত্র বাড়িতে আসেন এবং স্ত্রীর ভুলের জন্য ক্ষমা চান। ঘরে প্রবেশ করার পর গৃহকর্মী মিলনের চোখের নিচেসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
এ সময় পপি মিত্র জানান, কড়ই পুড়ে আগুন ধরে যাওয়ায় কিছুটা রাগের বশে কড়ই দিয়ে ভয় দেখিয়েছেন, তবে কোনো মারধর করেননি। পরিবারের সদস্য হিসেবেই তার গৃহকর্মীকে দেখে থাকেন। ভুল হয়ে গেলে তিনি তার জন্য ক্ষমা চান।
নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাকে সোনাডাঙ্গা থানার এক টিম সাপোর্ট সেন্টারে আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, গৃহকর্মী মিলন মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। সে তার বয়স বা নির্যাতনের কোনো তথ্যই ঠিকমতো দিতে পারছেন না। মানবিক বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তা হলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ঢাকা/নুরুজ্জামান/বকুল
প্রথম টি–টুয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪ উইকেটে হারল বাংলাদেশ