ব্যাটিং ব্যর্থতায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার, সিরিজে পিছিয়ে বাংলাদেশ
ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটের পরাজয় বরণ করতে হয়েছে স্বাগতিকদের। ফলে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা।
চট্টগ্রামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে শুরুটা আশাব্যঞ্জক হলেও মাঝের ওভারে ভয়াবহ ধস নামে ইনিংসে। একপর্যায়ে ১০০ রান পূর্ণ হওয়ার আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা। শেষ দিকে মাহেদী হাসানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে কোনোভাবে লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারের আগেই ১৯ ওভারে অলআউট হয়ে দলটি তোলে ১৩১ রান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ১৮.২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে পৌঁছে যায় জয়ের বন্দরে। হাতে তখনও ছিল ১০ বল।
চোটের কারণে অধিনায়ক লিটন দাস খেলতে না পারায় প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের নেতৃত্ব দেন তাওহীদ হৃদয়। একই ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় আব্দুল গাফফার সাকলাইনের। তবে দুজনেরই শুরুটা রঙিন হয়নি দলের পরাজয়ে।
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা অবশ্য মন্দ ছিল না। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৫২ রান তুলেছিল দল। কিন্তু এরপরই ছন্দ হারিয়ে ফেলে ব্যাটাররা। ৫২ থেকে ৯৯ রানে পৌঁছাতে আরও ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ, যা বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা শেষ করে দেয়।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন মাহেদী হাসান। ২২ বলের ইনিংসে তিনি মারেন ৪টি চার। এছাড়া সাইফ হাসান করেন ২০ রান এবং সৌম্য সরকার যোগ করেন ১৭ রান। তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন ও অভিষিক্ত সাকলাইন করেন ১০ রান করে।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিস নেন ৩টি করে উইকেট। ম্যাট রেনশ শিকার করেন ২ উইকেট।
স্বল্প পুঁজি নিয়েও লড়াইয়ের চেষ্টা করেছে বাংলাদেশের বোলাররা। জস ইংলিশকে ৫ রানে ফিরিয়ে দেন শরিফুল ইসলাম। এরপর মোস্তাফিজুর রহমান বিদায় করেন মিচেল মার্শকে, যিনি করেন ১৩ রান।
তবে তিন নম্বরে নেমে কুপার কোনোলি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ২৭ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। পরে তাকে ফেরান অভিষিক্ত সাকলাইন। টিম ডেভিড ২০ রান করে আউট হলেও ম্যাট রেনশ ও নিখিল চৌধুরীর ১৮ রানের দুটি কার্যকর ইনিংস অস্ট্রেলিয়ার জয় সহজ করে দেয়।
বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং করেন সাকলাইন। ৩.২ ওভারে ৩২ রান দিয়ে তিনি নেন ২ উইকেট। এছাড়া শরিফুল, মোস্তাফিজুর, মাহেদী ও রিশাদ হোসেন একটি করে উইকেট শিকার করেন। ১৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন অ্যাডাম জাম্পা।
দুই দলের মধ্যকার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ জুন, একই ভেন্যু চট্টগ্রামে।
ঢাকা/ইয়াসিন
প্রথম টি–টুয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪ উইকেটে হারল বাংলাদেশ