ঢাবির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় ইউনেস্কো
ঢাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য পরিচালিত বার্মিজ ভাষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সাফল্যের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সঙ্গে সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউনেস্কো বাংলাদেশ। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়টির সঙ্গে আরো বিস্তৃত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায় সংস্থাটি।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কার্যালয়ে ইউনেস্কো বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান নরিহিদে ফুরুকাওয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য পরিচালিত বার্মিজ ভাষা প্রশিক্ষণ প্রকল্পের অগ্রগতি, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল রোহিঙ্গা শিক্ষকদের বার্মিজ ভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মিয়ানমার কারিকুলাম কার্যকরভাবে পাঠদানের সক্ষমতা উন্নয়ন। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যতে মিয়ানমারের মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থা ও সমাজে পুনঃএকীভূত হওয়ার প্রস্তুতি জোরদারের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য একটি কার্যকর শিক্ষাসহায়তা মডেল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ইউনেস্কো বাংলাদেশের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন (কোডেক)। কারিগরি অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট। এছাড়া, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) এবং কক্সবাজার শিক্ষা সেক্টর প্রকল্পটিকে কৌশলগত সহায়তা দিয়েছে।
আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত কারিগরি দল পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) প্রণয়ন, প্রশিক্ষণের গুণগত মান তদারকি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দলে অধ্যাপক মোহাম্মদ আনছারুল আলম, ড. মো. মনির উদ্দিন এবং জান্নাতুন নাহার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রকল্পের আওতায় মোট ২ হাজার ২২১ জন রোহিঙ্গা শিক্ষক সফলভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এর ফলে শরণার্থী জনগোষ্ঠীর ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মিয়ানমার কারিকুলাম বাস্তবায়নের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সাক্ষাৎকালে ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে ঢাবির আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অবদানের প্রশংসা করেন। তারা বার্মিজ ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি অন্যান্য প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আরো বিস্তৃত ও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম মানবিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরো সম্প্রসারিত হবে। তিনি এ ধরনের উদ্যোগকে বৈশ্বিক মানবিক সংকট মোকাবিলায় শিক্ষা-ভিত্তিক কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামাল, অধ্যাপক সাইদুর রহমান, ড. মো. মনির উদ্দিন, জান্নাতুন নাহার, ইউনেস্কোর কক্সবাজার সাব-অফিসের প্রধান জেমস রাসেল এবং শিক্ষা বিষয়ক ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার ধনা রঞ্জন ত্রিপুরাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/সৌরভ/জান্নাত