ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৬ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ২ ১৪৩৩ || ৩০ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, অংশীদার হিসেবে দেখতে চায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৫৮, ১৬ জুন ২০২৬   আপডেট: ১৩:৫৯, ১৬ জুন ২০২৬
গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, অংশীদার হিসেবে দেখতে চায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‍“বর্তমান সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে সমস্যা সমাধানের অংশীদার হিসেবে দেখতে চায়। সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।”

আরো পড়ুন:

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এর ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এককভাবে কেন্দ্রীভূত হয়। পরবর্তীতে ১৬ জুন সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হেনে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়, যা বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।”

তিনি বলেন, “৫১ বছর পর সেই ইতিহাস মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, গণমাধ্যমের সংকটের ধরন বদলে গেছে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে তথ্যপ্রবাহের নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। সত্য ও মিথ্যা তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং মুহূর্তের মধ্যেই বিকৃত তথ্য প্রচারের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।”

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “অতীতের সংকট নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানের নতুন চ্যালেঞ্জগুলোও অনুধাবন করতে হবে। সাংবাদিক সমাজ তাদের সৃজনশীলতা ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে যেমন সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারে, তেমনি সমাধানের পথও খুঁজে বের করতে সক্ষম।”

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করার কথা বলে আসছেন। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি রাষ্ট্র কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্যে ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।

গণমাধ্যম খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকার ইতোমধ্যে মালিক, সম্পাদক, সাংবাদিক, টেলিভিশন, অনলাইন ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। সবাইকে নিয়ে একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তুলতে পারলেই গণমাধ্যমের বিদ্যমান সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। শুধু, রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক হলেই হবে না, সংবাদমাধ্যম মালিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন, পেশাগত মর্যাদা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে গণমাধ্যমের প্রকৃত বিকাশ সম্ভব নয়। এজন্য রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম।

ঢাকা/নজরুল/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়