ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৬ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ২ ১৪৩৩ || ৩০ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে পানির নিচে কালিয়াকৈর

গাজীপুর (পূর্ব) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৩৩, ১৬ জুন ২০২৬   আপডেট: ১৩:৩৫, ১৬ জুন ২০২৬
দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে পানির নিচে কালিয়াকৈর

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া কালিয়াকৈর পৌরসভার একটি সড়ক।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভাগুলোর একটি। মাত্র দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে এই পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লা, সড়ক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে, ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।

আরো পড়ুন:

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে পৌরসভার ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও হাটু সমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি চলে দুই ঘণ্টা। এতে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকা, হরিণহাটি, বিশ্বাসপাড়া ও আশপাশের কয়েকটি মহল্লার বাড়ি, মার্কেট ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ে।

জলাবদ্ধতার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কিছু অংশসহ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানির নিচে চলে যায়। পানির কারণে কর্মস্থলে যেতে ব্যর্থ হন অনেকে। বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় রান্নাঘর ও বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় অনেক পরিবার বিপাকে পড়েছেন। কেউ কেউ উঁচু স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে, জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে শিল্পাঞ্চলেও। অনেক শ্রমিক কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারায় কয়েকটি পোশাক কারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

হাটু পানিতে সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা


একই চিত্র দেখা গেছে, পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডাইনকিনি, হরতকিতলা ও মাইওয়ান মোড় এলাকায়। এসব এলাকার প্রধান সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও বসতবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যায়। আকস্মিকভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক ব্যবসায়ীর মূল্যবান মালামাল নষ্ট হয়েছে। কিছু এলাকায় ডাইং কারখানার দূষিত পানি ও আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।

বিশ্বাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা আল রাজীব বলেন, “বৃষ্টি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির সামনে পানি চলে আসে। চারদিকে পানি জমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে ঘরে আটকে আছি। বাজার করা কিংবা অফিসে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিবছর একই সমস্যার মুখোমুখি হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না।”

স্থানীয় দোকানদার মিজানুর রহমান বলেন, “সকালে দোকানে এসে দেখি ভেতরে পানি ঢুকে অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। নিয়মিত কর ও ভ্যাট দেওয়ার পরও প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীদের বারবার ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।”

বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারীদের


পোশাক শ্রমিক হাফিজা খাতুনের অভিযোগ, “ভোটের সময় নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রান্নাঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পরিবারের খাবার প্রস্তুত করাও সম্ভব হচ্ছে না।”

কাঁচামাল ব্যবসায়ী মালেক মিয়া বলেন, “সকালে দোকানে গিয়ে দেখি পানি ঢুকে সব কাঁচামাল ভাসছে। এভাবে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।”

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে খাল ও ড্রেনগুলোর পানি ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে। ফলে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলছে এবং পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। পাশাপাশি ভরাট হয়ে যাওয়া খাল ও ড্রেন পুনঃখননের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি জানান।

ঢাকা/রফিক/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়