শাকিরার সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প
সাতসতেরো ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
শাকিরাকে বলা হয় ‘কুইন অফ লাতিন মিউজিক’। ছবি: ডয়চে ভেলে থেকে নেওয়া
বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে এমন শিল্পী খুব কমই আছেন, যিনি একসঙ্গে লাতিন পপ, রক, আরবি সুর, বেলি ড্যান্স এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে নিজের লক্ষ্য অর্জনের অংশ করে তুলেছেন। শাকিরা সেই বিরল ব্যতিক্রমদের একজন। কলম্বিয়ার একটি উপকূলীয় শহর থেকে তিনি উঠে এসেছেন। এখন শাকিরা শুধু আন্তর্জাতিক তারকা হননি, বরং শিক্ষা ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা একজন প্রভাবশালী মানবহিতৈষী হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন।
সমালোচনা শুনেও থেমে থাকেননি
১৯৭৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কলম্বিয়ার বারাঙ্কিয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন শাকিরা ইসাবেল মেবারাক রিপোল। তার পরিবারিক সংস্কৃতি লেবানিজ ও কলম্বীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিপূর্ণ। যা পরবর্তী সময়ে তার সংগীত ও নৃত্যশৈলীতে গভীর প্রভাব ফেলে। ছোটবেলা থেকেই কবিতা লিখতেন, গান গাইতেন এবং মধ্যপ্রাচ্যপ্রভাবিত নাচের প্রতি আগ্রহ দেখাতেন। শৈশবে স্কুলে গান গাওয়ার সময় শাকিরার কণ্ঠ নিয়ে সমালোচনাও শুনতে হয়েছে। কিন্তু নিরুৎসাহ না হয়ে তিনি নিজের অনুশীলন চালিয়ে যান। সেই অধ্যবসায়ই পরবর্তীতে তাকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেয়।
ক্রীড়া ও সংগীতের ইতিহাসে শাকিরা জনপ্রিয় নাম
লাতিন আমেরিকা থেকে বিশ্বজয়
নব্বইয়ের দশকে স্প্যানিশ ভাষার অ্যালবামের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় পরিচিতি পেলেও ২০০১ সালে ইংরেজি ভাষার অ্যালবাম লন্ড্রি সার্ভিস প্রকাশের পর তার আন্তর্জাতিক খ্যাতি বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর ‘হোয়েনএভার, হয়ারএভার’, ‘হিপস ডোন্ট লাই’, ‘শি উলফ’-এর মতো গান তাকে বৈশ্বিক পপ আইকনে পরিণত করে। ২০১০ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘ওয়াকা ওয়াকা’ তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় মাইলফলক হয়ে ওঠে। গানটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়তা পায় এবং ক্রীড়া ও সংগীতের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় সাংস্কৃতিক মুহূর্ত হিসেবে স্থান করে নেয়।
মঞ্চের বাইরের শাকিরা
শুধু বিনোদন জগতেই নয়, সমাজসেবাতেও শাকিরার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তিনি ১৯৯৭ সালে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার জন্য ‘পিয়েস দেসকালসোস ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০০৩ সালে তিনি ইউনিসেফ-এর শুভেচ্ছাদূত হিসেবে যুক্ত হন এবং বিশ্বজুড়ে শিশুদের শিক্ষা ও কল্যাণ নিয়ে কাজ শুরু করেন। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর তিনি বাংলাদেশ সফর করে ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ও পরিবারগুলোর অবস্থা পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষা কার্যক্রমের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণে ভূমিকা রাখেন।
ব্যক্তিগত জীবনের আলো-ছায়া
শাকিরার ব্যক্তিগত জীবনও বহুবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে। দীর্ঘদিন স্প্যানিশ ফুটবলার জেরার্ড পিকে -এর সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন এবং তাদের দুই সন্তান রয়েছে। সম্পর্কের অবসানের পরও তিনি নিজের সৃষ্টিশীলতা ও সংগীতচর্চা অব্যাহত রেখেছেন।
তথ্যসূত্র: শাকিরা বায়োগ্রাফি ওভারভিউ
ঢাকা/লিপি