জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস গৌরবের: শিক্ষামন্ত্রী
জবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
বুধবার জবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ডিন’স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কৃতি শিক্ষার্থীদের ‘ডিন’স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বিশ্ববিদ্যালয়টির ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। এর ইতিহাস গৌরবের। ভবিষ্যতেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমাদের বিশেষ নজর ও দৃষ্টি থাকবে।”
বুধবার (১৭ জুন) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত কৃতি শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ একাডেমিক স্বীকৃতিগুলোর অন্যতম ‘ডিন’স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ছিল স্মরণীয়। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান সবসময়ই স্মরণীয়।”
বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “ব্রাহ্মণ স্কুল থেকে কলেজ এবং পরে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পেছনে দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও নীতিগত কাজ করতে হয়েছে।”
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে বই ছাপানো নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে।” সে সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গভীর রাতে বই চোরাচালান বন্ধে অভিযান পরিচালনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “শুধু পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষা নয়, বিতর্ক, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একাডেমিক কাঠামোতেও পরিবর্তন প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, ২০২৭ সালে শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং ২০২৮ সালে একাডেমিক সিলেবাস হালনাগাদ করা হবে।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার অতীত পরিস্থিতির সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “একজন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বলেছিলেন, তিনি উপাচার্যের চেয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এটি জাতি ও শিক্ষার জন্য লজ্জাজনক। তারা একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি।”
বর্তমান নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আজ আমরা যে নেতৃত্ব পেয়েছি, এমন নেতৃত্ব বারবার পাওয়া যায় না। দায়িত্ব পাওয়ার পর এমন কোনো দিন ছিল না, যেদিন আমি ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়েছি। দেশের উন্নয়ন ও শিক্ষার অগ্রগতির জন্য সবাই নিরলসভাবে কাজ করছেন।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ ডিন’স অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে জ্ঞানভিত্তিক, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে নেতৃত্ব দেবে।”
তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকটের বিষয়ও তুলে ধরেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশে অবস্থিত একটি খালি জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষকদের আবাসনসহ বেশ কিছু উন্নয়নকাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। সাময়িক আবাসনের ব্যবস্থা হলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হবে।”
এছাড়া, উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন জবির সাবেক এই শিক্ষার্থী ও ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য।
অনুষ্ঠানে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড কমিটি-২০২৬-এর আহ্বায়ক অধ্যাপক পরিমল বালা স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইস উদ্দীন, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শারমিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মনজুর মোর্শেদ ভূঁইয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী।
প্রসঙ্গত, এবার স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে অসাধারণ ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রতিটিতে ২৫ জন করে মোট ৫০ জন শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছেন। এছাড়া, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ২৬ জন এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ ২৮ জন শিক্ষার্থী ডিন’স অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
ঢাকা/লিমন/জান্নাত
প্রথম টি–টুয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪ উইকেটে হারল বাংলাদেশ