চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, মাদ্রাসা ছাত্রদের চিৎকারে রক্ষা
লালমনিরহাট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
সোমবার (৩ মে) বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলার লালমনিরহাট-বুড়িমারী রেলরুটে বুড়িমারীগামী ‘কমিউটার-৭১’ ট্রেনটির ইঞ্জিনে আগুন লেগে যায়। ট্রেনটি থামার পর ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এক ব্যক্তি।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় চলন্ত কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনে হঠাৎ ধোয়া উড়ে আগুন জ্বলতে দেখে রেললাইনের পাশের একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা চিৎকার দিলে এর চালক তাৎক্ষণিক ব্রেক চেপে ট্রেনটি থামাতে সক্ষম হওয়ায় প্রাণ বেঁচে গেছেন কয়েকশ যাত্রী।
অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে; ট্রেনটির গতি কমামাত্রই হুড়োহুড়ি করে তারা ট্রেন থেকে নেমে আসেন।
রবিবার (৩ মে) বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলার লালমনিরহাট-বুড়িমারী রেলরুটে বুড়িমারীগামী ‘কমিউটার-৭১’ ট্রেনটি দুর্ঘটনায় পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি হাতীবান্ধা রেলস্টেশন অতিক্রম করে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে যাওয়ার পর হঠাৎ ইঞ্জিনে আগুন জ্বলে ওঠে। এসময় রেললাইনের পাশের একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রথমে ট্রেনটির আগুন দেখতে পায়। তারা চিৎকার দেয়। তখন ট্রেনের চালক ব্রেক চেপে ট্রেনটি থামিয়ে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন হাতীবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। সবার চেষ্টায় ট্রেনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় মাদ্রাসা ছাত্র মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “আমরা মাদ্রাসার বারান্দায় বসে ছিলাম, হঠাৎ দেখি চলন্ত ট্রেনটার ইঞ্জিনের নিচ থেকে দাউদাউ করে আগুন বের হচ্ছে আর কালো ধোঁয়া আকাশ ভরে যাচ্ছে।”
“দৃশ্যটা দেখে কলিজা কেঁপে ওঠে। আমরা সবাই মিলে একযোগে চিৎকার শুরু করি যাতে চালক শুনতে পান। ট্রেনটা থামার সাথে সাথে বগি থেকে মানুষজন যেভাবে ছুটছিল, মনে হচ্ছিল বড় কিছু ঘটে যাবে। আমরা সাথে সাথে বালতি আর পানি নিয়ে দৌড়ে যাই। পরে ফায়ার সার্ভিস আসায় রক্ষা হয়। আল্লাহর অশেষ রহমত যে, ট্রেনটা বড় কোনো জনবসতির ভেতরে ঢোকার আগেই থেমে গিয়েছিল,” যোগ করে হাফিজুর।
তবে চেষ্টা করেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনায় পড়া ট্রেনটির যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতে প্রায় ঘণ্টাখানেক লেগে যায়। তারপর সেটি নির্ধারিত গন্তব্য বুড়িমারীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
হাতীবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ইমরান হাসান রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চাকার ঘর্ষণে অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টি হয়ে ইঞ্জিনের অয়েল চেম্বারে আগুন লেগেছিল। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ঢাকা/সিথুন/রাসেল