সিএনএনের প্রতিবেদন: ইরানের পারমাণবিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ অক্ষত আছে
গত কয়েক মাসে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়, ইউরেনিয়াম উৎপাদন কেন্দ্র এবং ইরানের পারমাণবিক সরবরাহ শৃঙ্খলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে সিএনএন মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার সব উপাদানের ওপর আঘাত হানতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার ওপর নজর রাখছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি স্থাপনায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই শৃঙ্খলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়তো একেবারেই অক্ষত রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য ব্যাপক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এমন একটি স্থান হলো ইস্পাহান ইউরেনিয়াম রূপান্তর কেন্দ্র। সেখানে, প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে উৎপাদিত উপাদানগুলোকে বিশুদ্ধ করে ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লুরাইডে রূপান্তরিত করা হয়, যা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে ব্যবহৃত হয়।
বহুল আলোচিত এই স্থাপনাটির চারপাশের গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী স্যাটেলাইট চিত্র থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, পার্শ্ববর্তী সুড়ঙ্গগুলোতে এখনো মূল্যবান কিছু লুকিয়ে থাকতে পারে।
ওয়াশিংটন ডিসির ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ডেভিড অলব্রাইট বলেছেন, ইস্পাহানে দৃশ্যমান ইউরেনিয়ামের মজুদ ‘একটি বড় ঝুঁকি।’
তিনি বলেন, “তারা যে পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করেছে, তা তাদের পুরো সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের এক বছরের উৎপাদনের সমান এবং ধারণা করা হয় যে এর প্রায় পুরোটাই ইস্পাহানে রয়েছে।”
ইরানে থাকা ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে ফেলার মার্কিন দাবি তেহরানের সঙ্গে আলোচনা স্থবির করে দেওয়ার একটি প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ঠিক কী পরিমাণ ইউরেনিয়াম অবশিষ্ট আছে, তা খুঁজে বের করাই ইরান পারমাণবিক হুমকি হিসেবে থাকবে কি না, তা নির্ধারণের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
ঢাকা/শাহেদ
প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিএজির অডিট রিপোর্ট পেশ