ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৫ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২২ ১৪৩৩ || ১৮ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

টেন্ডার বাক্স ছিনতাই, যুবদলের দুই নেতাকে শোকজ

রাজশাহী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৫৮, ৫ মে ২০২৬   আপডেট: ২২:০৪, ৫ মে ২০২৬
টেন্ডার বাক্স ছিনতাই, যুবদলের দুই নেতাকে শোকজ

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) নিলামের টেন্ডার বাক্স পুলিশের সামনে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে, এর ১০ মিনিট পর সেটি উদ্ধার করা হয়েছে। টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের রাজশাহী মহানগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণের আহ্বায়ক ধলু। তার সঙ্গে আরো কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেন্ডার বাক্স ছিনতাই করা হয়। তবে, বিষয়টি জানাজানি হয়েছে দুপুরের দিকে। 

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদলের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণের আহ্বায়ক ধলু ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে রাজশাহী মহানগর কমিটি। 

আরডিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের অপ্রয়োজনীয় মালামাল বিক্রির জন্য ২০ এপ্রিল চারটি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দরপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারিত ছিল। তবে, নিলামকে ঘিরে সকাল থেকেই বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

নিলামে আরডিএ মার্কেটের অচল মালামাল, আরডিএ পার্কের গাছ, শিরোইল বাস টার্মিনালের পুরনো বিলবোর্ডের সামগ্রী এবং ঢাকার লিয়াজোঁ অফিস-কাম-রেস্ট হাউসের কিছু ব্যবহার অযোগ্য জিনিসপত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রায় ৪০০টি শিডিউল বিক্রি হয়েছিল বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এসব মালামালের মোট মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক একদল নেতাকর্মী আরডিএ ভবনে প্রবেশ করেন। তারা সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সামনেই হঠাৎ করে টেন্ডার বাক্সটি ছিনতাই করে নিয়ে যান। এ সময় পুলিশ সদস্যরা কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করেন। ঘটনার কিছু সময় পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া টেন্ডার বাক্সটি উদ্ধার করে পুনরায় আরডিএ কার্যালয়ে নিয়ে আসে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের সঙ্গে ধলু ও আজিজুল ছাড়াও রাজশাহী মহানগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুন, যুবদল নেতা তৌফিক, সাগর ও শরিফসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন।

দরপত্র দাখিলকারী ঠিকাদার হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেছেন, ছিনতাইয়ের পর ছিনতাইকারীরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের সুবিধা দিতে অন্যদের দরপত্রে কাটাকাটি করে পুনরায় বাক্সে জমা দিয়েছেন। ৪৫০টি শিডিউল বিক্রি হলেও শেষ পর্যন্ত জমা পড়েছে অল্প সংখ্যক দরপত্র।

আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান বলেছেন, “দরপত্র বাক্সটি পুলিশের পাহারায় ছিল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক এসে জোর করে বাক্সটি নিয়ে যায়। পরে দুই মিনিটের মধ্যে তারা ভবনের চারতলায় বাক্সটি রেখে চলে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। নিরাপত্তা জোরদারের পর নির্ধারিত সময়েই বেলা আড়াইটায় বাক্স খোলা হয়।”

তিনি বলেন, “দুপুর আড়াইটার দিকে উদ্ধার করা টেন্ডার বাক্সটি খোলা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের সময় বেশকিছু দরপত্রে কাটাকাটির চিহ্ন পাওয়া যায়, যা পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দরপত্র বাতিল হবে কি না, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

যুবদলের দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়েছে, (আরডিএ) ভবনে টেন্ডারের বাক্স-সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, যা রাজশাহী মহানগর যুবদলের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ঘটনাটি সংগঠনের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী হওয়ায় বিষয়টি সংগঠনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সুস্পষ্ট লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য আপনাকে নির্দেশ প্রদান করা হলো। এই নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি এবং সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবির কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আপনার ব্যাখ্যা প্রদান করার জন্য বলা হলো। অন্যথায়, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আপনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেছেন, “সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভুল বোঝাবুঝির কারণে বাক্সটি নিয়ে গিয়েছিলেন এবং পরে তা ফেরত দিয়েছেন। তবে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আরডিএ কর্তৃপক্ষ চাইলে মামলা করতে পারে। তারা মামলা না করলে পুলিশই আইনি পদক্ষেপ নেবে।”

ওসি বলেন, “ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম তুহিনুর আলম ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমানকে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা সাড়া দেননি। তাই, তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

ঢাকা/মাহী/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়