অস্থায়ী চুক্তির দিকে এগোচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের যুদ্ধ বন্ধ করতে একটি সীমিত ও অস্থায়ী চুক্তির দিকে এগোচ্ছে। এই খসড়া কাঠামোটি যুদ্ধ থামালেও সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলো অমীমাংসিতই থেকে যাবে। বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সূত্র ও কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এই পরিকল্পনাটি একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদী সমঝোতা স্মারককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, যা দুই পক্ষের মধ্যে গভীর বিভাজনকে তুলে ধরে এবং ইঙ্গিত দেয়, এই পর্যায়ে যেকোনো চুক্তিই একটি অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ হবে।
একটি আংশিক চুক্তির মাধ্যমেও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যেতে পারে, এমন আশা ইতিমধ্যেই বাজারে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার এশিয়ার শেয়ার বাজার রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি লেনদেন হয়েছে এবং সরবরাহ বিঘ্ন কমে আসার আশঙ্কায় তেলের দামে ব্যাপক পতন দেখা গেছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য- দেশটির উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের ভবিষ্যৎ এবং তেহরান কতদিন পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ রাখবে-এই বিষয়গুলোতে বিদ্যমান থাকায় তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি ব্যাপক নিষ্পত্তির উচ্চাকাঙ্ক্ষা কমিয়ে এনেছে।
সূত্র ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর পরিবর্তে তারা একটি অস্থায়ী ব্যবস্থার দিকে কাজ করছেন, যার লক্ষ্য হলো পুনরায় সংঘাত প্রতিরোধ করা এবং প্রণালি দিয়ে নৌচলাচল স্থিতিশীল রাখা।
দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতায় জড়িত একজন ঊর্ধ্বতন পাকিস্তানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, “আমাদের অগ্রাধিকার হলো তারা যেন যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি ঘোষণা করে এবং সরাসরি আলোচনায় ফেরার পর বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।”
সূত্র ও কর্মকর্তাদের মতে, প্রস্তাবিত কাঠামোটি তিনটি পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে: আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি, হরমুজ প্রণালির সংকটের সমাধান এবং একটি বৃহত্তর চুক্তির জন্য আলোচনার উদ্দেশ্যে ৩০ দিনের একটি সময়সীমা চালু করা।
মধ্যস্থতা সম্পর্কে অবহিত একটি পাকিস্তানি সূত্র এবং আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে সংঘাতের অবসান ঘটানোর জন্য এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক প্রায় চূড়ান্ত, যদিও পক্ষগুলোর মধ্যে এখনো কিছু মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
ঢাকা/শাহেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ৭ জুন