ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৭ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৪ ১৪৩৩ || ১৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা একীভূত করা হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৪৩, ৭ মে ২০২৬  
মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা একীভূত করা হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবায় কাজের দ্বৈততা কমিয়ে একটি সমন্বিত ও আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, “বর্তমানে স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবস্থার অধীনে আলাদা আলাদা কাঠামোয় পরিচালিত সেবাকে একীভূত করে একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে তোলা হবে।”

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ও জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ ও সুইডেনের যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।

আরো পড়ুন:

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকারের স্বাস্থ্য পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হচ্ছে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা শক্তিশালী করা। সরকার এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যা হবে আধুনিক, কার্যকর ও সম্পূর্ণ পুনর্গঠিত।”

তিনি বলেন, “পরিবার পরিকল্পনার বর্তমান কাঠামো আমাদের জন্য কোনো বোঝা নয়, বরং এটি একটি বড় সম্পদ। তবে সময়ের প্রয়োজনে এই ব্যবস্থায় বিবর্তন আনতেই হবে।”

তিনি জানান, বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের আওতায় প্রায় ৪০ হাজার মাঠকর্মী বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করছেন। সরকার আরো এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। নতুন ও বিদ্যমান কর্মীদের সমন্বয় করে মোট প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কর্মীকে একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সবার জন্য একই ধরনের জব ডেসক্রিপশন ও ‘এসেনশিয়াল সার্ভিস প্যাকেজ’ নিশ্চিত করা হবে, যাতে দেশের সব এলাকায় সমমানের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া যায়।”

মাঠপর্যায়ে একই পরিবারের কাছে একাধিক কর্মী যাওয়ার বিষয়টিকে অদক্ষতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একই বাড়িতে তিনবার আলাদা কর্মী যাওয়ার ফলে যেমন ডুপ্লিকেশন হয়, তেমনি দূরের অনেক বাড়ি বাদ পড়ে যায়। সমন্বিত কাঠামো হলে এই কাভারেজ গ্যাপ আর থাকবে না।”

তিনি বলেন, “এখন শুধু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর সরকার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।”

গর্ভনিরোধক ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ নিজ উদ্যোগে গর্ভনিরোধক সামগ্রী কিনে ব্যবহার করেন। যথাযথ সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে এই হার ৭০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। এতে সরকারের ওপর চাপ কমবে এবং সাশ্রয় হওয়া অর্থ জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ব্যয় করা যাবে।

স্বাস্থ্য খাতের অর্থায়ন প্রসঙ্গে ড. এম এ মুহিত বলেন, “অর্থের চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অদক্ষতা এবং সময়মতো বাস্তবায়ন করতে না পারা।”

তিনি জানান, সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য বাজেটের আকার বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নীতি সংলাপে আরো বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমাদ, সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তসলিম উদ্দিন খান, সুইডিশ দূতাবাসের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. মোহাম্মদ জাহিরুল ইসলাম।

ঢাকা/এমএসবি/এসবি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়