ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৭ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৪ ১৪৩৩ || ১৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বাগেরহাটে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অপপ্রচার, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বাগেরহাট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫৬, ৭ মে ২০২৬   আপডেট: ১৭:০৭, ৭ মে ২০২৬
বাগেরহাটে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অপপ্রচার, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন তামান্না আক্তার

বাগেরহাটের শরণখোলায় দখলকৃত জমি উদ্ধার, মিথ্যা মামলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তামান্না আক্তার নামে এক নারী।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

আরো পড়ুন:

তামান্না আক্তার শরণখোলা উপজেলার রতিয়া রাজাপুর গ্রামের ইলিয়াস হোসেন হাওলাদারের স্ত্রী।

লিখিত বক্তব্যে তামান্না আক্তার বলেন, “গত ৪ মে সকালে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী রবিন ঢালীর পরিবারের সঙ্গে তাদের বিরোধের সৃষ্টি হয়।” এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি গণমাধ্যমে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সংবাদ ও ভিডিওচিত্র প্রচার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, “জমিসংক্রান্ত বিরোধকে ধর্মীয় রূপ দিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

তামান্না আক্তারের দাবি, তার শ্বশুর সোবহান হাওলাদার ও তার তিন ভাই ১৯৮৯ সালে নির্মলেন্দু হালদারের কাছ থেকে ১৪ শতক এবং একই বছরে নিলকান্ত ও রতিকান্তের কাছ থেকে আরো ১৪ শতক জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকেই তারা ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন। রাজাপুর মৌজার বিআরএস ২২১৭ দাগের ২৮ শতক জমি তার শ্বশুরের নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, “জমি কেনার প্রায় ১০ বছর পর ১৯৯৯ সালে নির্মলেন্দু হালদারের ভাই গোপাল ও দেপালের সন্তান গোকুল ও দুলালের কাছ থেকে রবিন ঢালী ৩৩ শতক জমি ক্রয় করেন এবং ভোগদখল শুরু করেন। ওই জমির বিআরএস দাগ নম্বর ২২১৯।

তামান্নার অভিযোগ, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রবিন ঢালী স্থানীয় ইউপি সদস্য মৃণাল বাবুর সহযোগিতায় জোরপূর্বক তাদের ২৮ শতক জমি দখল করেন। এ সময় ২২১৭ দাগের জমিতে থাকা তার শ্বশুর সোবহান হাওলাদারের বসতঘর ভাঙচুর এবং তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিচার চাইলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ এ বিষয়ে কথা বলেননি। পরে বাধ্য হয়ে তার শ্বশুর পাশের জমিতে আশ্রয় নেন।”

তামান্না দাবি করেন, রবিন ঢালী তার দলিলে ২২১৭ দাগ উল্লেখ থাকায় তাদের জমি দাবি করছেন। তবে তাদের জমি ও রবিন ঢালীর জমির বিআরএস দাগ সম্পূর্ণ আলাদা। রবিন ঢালী ২২১৯ দাগের ৩৩ শতক জমি ভোগদখল করলেও অন্যায়ভাবে ২২১৭ দাগের তাদের ২৮ শতক জমি দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় একাধিকবার সালিস-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং রবিন ঢালী বিভিন্ন সময় তার শ্বশুর ও পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তামান্না। নিরাপত্তার কারণে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার শ্বশুর বাগেরহাট আদালতে ৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

তিনি জানান, সম্প্রতি তারা জানতে পারেন, তাদের দাবি করা জমিতে থাকা রবিন ঢালীর পুরোনো জরাজীর্ণ ঘর ভেঙে নতুন ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি জানতে পেরে তার শ্বশুর সোবহান হাওলাদার ও স্বজনরা সেখানে যান।

ঢাকা/আমিনুল/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়