ঢাকা     বুধবার   ২৯ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪৩১

তিন উৎসবে রঙিন এনআরবিসি ব্যাংক

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০২, ১৮ এপ্রিল ২০২৪  
তিন উৎসবে রঙিন এনআরবিসি ব্যাংক

এনআরবিসি ব্যাংক বর্ণাঢ্য আয়োজনে নিজেদের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ১২ বছরে পদার্পণ, বাংলা নববর্ষ এবং ঈদ পুনর্মিলনী উদযাপন করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) এই তিন উৎসব উপলক্ষে এনআরবিসি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সব বিভাগ এবং সারা দেশের সব শাখা-উপশাখায় মতবিনিময় সভা ও  ‘ওয়ান ডিস পার্টি’র আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। হাইব্রিড পদ্ধতিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ব্যাংকের চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল, ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মিয়া আরজু, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আদনান ইমাম, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, পরিচালক ওলিউর রহমান, এ এম সাইদুর রহমান, লকিয়ত উল্লাহ, মোহাম্মদ নাজিম, স্বতন্ত্র পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান এয়ার চিফ মার্শাল (অব.) আবু এসরার, স্বতন্ত্র পরিচালক ড. খান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, ড. রাদ মজিব লালন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী  গোলাম আউলিয়াসহ ব্যাংকের উদ্যোক্তা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এনআরবিসি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছাড়াও বাংলা পঞ্জিকার ১৪৩১ বর্ষকে বরণ এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর শেষে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওয়ান ডিস পার্টিতে ব্যাংকের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেদের পছন্দের খাবার রান্না করে নিয়ে এসে সহকর্মীদের সঙ্গে উৎসবে মেতে ওঠেন। 

অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গড়ে তোলা অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশে ধর্ম যার যার উৎসব সবার। সমগ্র জাতি উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ এবং বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছে। এনআরবিসি ব্যাংক আজ ১২ বছরে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এনআরবিসি ব্যাংক গ্রামের উন্নয়নে যেভাবে ভূমিকা পালন করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা বিশ্বাস করি, এনআরবিসি ব্যাংকের জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ড সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যকে সহজ করবে। 

এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল বলেন, এনআরবিসি ব্যাংক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে। একেবারে পিছিয়ে থাকা মানুষটিকে এগিয়ে নিতে আমরা ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। আজ আমরা বাংলা নববর্ষ, ঈদ পুনর্মিলনী ও ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী— এই তিন উৎসব একসঙ্গে উদযাপন করছি। এনআরবিসি ব্যাংক উৎসবের মতো রঙিন করতে চায় গ্রাম-বাংলার প্রতিটি মানুষের জীবনযাত্রাকে। 

ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মিয়া আরজু বলেন, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ১১ বছরেই বিভিন্ন আর্থিক সূচকে শীর্ষে উঠে এসে নতুন নতুন মাইলফলক স্থাপন করছে এনআরবিসি ব্যাংক। নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন ও শাখা-উপশাখা সম্প্রসারণে সবার শীর্ষে এনআরবিসি ব্যাংক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগের প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর তুলনায় অনেক এগিয়ে এনআরবিসি ব্যাংক। ব্যাংকটি গ্রামের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য গৃহীত কর্মসূচির মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। 

ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আদনান ইমাম বলেন, আমাদের নিজস্ব উদ্ভাবন ছিল উপশাখা ব্যাংকিং। উপশাখার মাধ্যমে আমরা প্রান্তিক গ্রাম র্পন্ত ব্যাংকিং সেবা নিয়ে যেতে পেরেছি।  প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিনাজামানতে ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮০ হাজার মানুষ এনআরবিসি ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠেছেন। এনআরবিসি ব্যাংক গণমানুষের ব্যাংক। যেখানে বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভব, আমরা সেখানে বিনিয়োগ করছি। ব্যাংকিং সেবাকে মানুষের দৌঁড়গোড়ায় পৌছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, আমরা রিয়েলটাইম ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে ফিনটেকের ওপর জোর দিয়েছি। আমাদের মূল লক্ষ্য— প্রতিবছর ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। 

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল ৫৩ জন প্রবাসী উদ্যোক্তাদের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় এনআরবিসি ব্যাংক। বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয় ওই বছরের ১৮ এপ্রিল। আলোচ্য সময় ব্যাংকের আর্থিক সূচকগুলো অনেক শক্তিশালী হয়েছে। ২০১৭ সালে আমানত ছিল ৪ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। ২০২৩ সাল শেষে তা প্রায় ৪ গুণেরও বেশি বেড়ে হয়েছে ১৭ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা। এভাবে ঋণ বিতরণ বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি। ২০১৭ সালে ঋণ ছিল ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, আর ২০২৩ সাল শেষে হয়েছে ১৪ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা। ব্যাংকের কর্মীর সংখ্যা ৬১৭ জন থেকে ৬ গুণ বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৮৩২ জন। ২০১৭ সালে শাখার সংখ্যা ছিল মাত্র ৬১টি। ২০২৩ সাল শেষে শাখা-উপশাখা হয়েছে প্রায় ৮০০টি।

ঢাকা/রফিক

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়