ঢাকা, সোমবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৫ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

স্টান্টম্যানের আর্তনাদ: দুধের বাচ্চাকেও খাওয়াতে পারিনি

রাহাত সাইফুল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৫ ১২:০৫:০৪ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০৫ ১০:৩৬:০৭ এএম

আমিনুলের শৈশব কৈশোর কেটেছে পাবনায়। রুপালি পর্দার ‘ডিসুম ডিসুম’ ফাইট আর বহুতল ভবন অথবা বড় কোনো সেতু থেকে লাফিয়ে পড়তে দেখে স্বপ্ন বুনেন ওই তারকার মতো সাহসী হওয়ার। পর্দায় প্রিয় তারকাকে এমন দৃশ্যে দেখলেও এটি করেন মূলত একজন স্টান্টম্যান। এসব দৃশ্যের প্রকৃত নায়ক একজন স্টান্টম্যান।

আমিনুল নব্বইয়ের দশকে ঢাকায় এসে যোগ দেন ফাইট গ্রুপে। এর পরে সুযোগ আসে চলচ্চিত্রে মারামারির দৃশ্যে কাজ করার। সুঠাম দেহ আর সাহসিকতার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যেও স্টান্টম্যান হিসেবে কাজ করেন আমিনুল।

চলচ্চিত্রকে ভালোবেসে ৪০-৫০টি চলচ্চিত্রে স্টান্টম্যান ও ৭০টি চলচ্চিত্রে ফাইটের দৃশ্যে অভিনয় করেন। রুপালি জগতের ঝলমলে আলোয়ে নিজেকে খুব বেশি জ্বালাতে পারেননি আমিনুল। হঠাৎ করেই তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার।

২০১৪ সালে শাকিব খান প্রযোজিত ও অভিনীত ‘হিরো দ্য সুপার স্টার’ সিনেমার শুটিং করছিলেন এফডিসির কড়ইতলায়। জাম্প দিতে গিয়ে আমিনুলের ঘার নিচে পড়ে যায়। সেখানেই জ্ঞান হারান আমিনুল। এরপর শুটিং সেটের লোকজন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ প্রসঙ্গে আমিনুল বলেন, ‘জ্ঞান ফিরে দেখি আমি হাসপাতালে। শাকিব খান সেই সময় হাসপাতালের বিলটা দিয়েছিলেন। এরপর প্রত্যেক দিন ৪-৫ শ’ টাকার ঔষধ খেতে হয়েছে। সে টাকা কেউ দেয়নি। এফডিসি থেকে সহযোগিতা করার কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত তাও পেলাম না। এ দিকে তখন আমার বাচ্চার দুধ কেনার সামর্থ্য ছিল না। আমার দুধের বাচ্চাকেও ঠিকমতো খাওয়াতে পারিনি। আমি এখনকার সব শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছি, কিন্তু কেউ আমাকে সহযোগিতা করেননি।’

করোনা সংক্রমণে চলচ্চিত্রের সব কার্যক্রম বন্ধ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘করোনায় সবকিছু বন্ধ থাকায় আয় রোজগারও বন্ধ। দুইটা সন্তান নিয়ে এখন দিশেহারা। শুনেছি, এফডিসিতে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমি এখন পর্যন্ত কিছুই পেলাম না। শিল্পী সমিতির সদস্যপদ স্থগিত করায় শিল্পী সমিতি থেকেও কিছু দেওয়া হচ্ছে না।’

আমিনুল এখন স্বাভাবিকভাবে কোনো কাজ করতে পারছেন না। নিয়তির উপর আক্ষেপ করে বলেন, ‘চলচ্চিত্র আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে। আমি এখন অচল। ভারি কোনো কাজ করতে পারছি না। চলচ্চিত্রে কত মানুষের সঙ্গে কাজ করেছি। কেউ কোনো দিন দু’ পয়সা দিয়ে সাহায্য করল না। আমার দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ কী তাও জানি না।’

অভাব-অনটনে দিনাতিপাত করছেন পর্দার পেছনের হিরোরা। অথচ কোটি টাকা ব্যয়ের চলচ্চিত্রে একজন স্টান্টম্যান তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নায়ক-নায়িকার সঙ্গে কাজ করেন। একজন নায়ক-নায়িকা বা খল অভিনেতার সম্মানি তিন লাখ থেকে ৪০ লাখ পর্যন্ত। অথচ একজন স্টান্টম্যানের পারিশ্রমিক খুবই কম। এর মধ্যে প্রতিদিন তাদের হাতে কাজও থাকে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব কাজ করেন তারা। অনেকে দুর্ঘটনার শিকারও হন। এর মধ্যে কেউ কেউ পঙ্গুত্ববরণ করে ঘরে বসে আছেন। অর্থাভাবে তাদের জীবন কাটে। চলচ্চিত্রের কাজ কমে যাওয়ায় স্বল্প পারিশ্রমিকে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। চলচ্চিত্রের ঝলমলে আলোর মতো বাস্তব জীবনে তাদের জীবন আলোকিত নয়।

 

ঢাকা/রাহাত সাইফুল/শান্ত