ঢাকা     রোববার   ১৪ জুলাই ২০২৪ ||  আষাঢ় ৩০ ১৪৩১

ইসরায়েলের হামলায় হামাসপ্রধানের বোন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৫২, ২৫ জুন ২০২৪   আপডেট: ১৩:৫৭, ২৫ জুন ২০২৪
ইসরায়েলের হামলায় হামাসপ্রধানের বোন নিহত

ফিলিস্তিনের গাজা শহরের শাতি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের বিমান হামলায় হামাসপ্রধান ইসমাইল হানিয়ার এক বোন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।

হিব্রু গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, শাতি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের বিমান হামলায় হামাসপ্রধানের বোনসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন।

হামাস জানিয়েছে, এর আগে গত এপ্রিলে ঈদুল ফিতরের দিনে হানিয়ার তিন ছেলেকে হত্যা করে ইসরায়েল। হামাসের ভাষ্যমতে, তার চার নাতি-নাতনিও (তিন মেয়ে ও এক ছেলে) নিহত হয়। ঈদের দিনে একটি বেসামরিক গাড়িতে চড়ে শাতি শরণার্থী শিবিরে এক স্বজনের বাড়িতে যাচ্ছিলেন হানিয়ার ছেলে, নাতি-নাতনিরা। এ সময় ওই গাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করে।

এ ঘটনায় সেসময় আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসপ্রধান হানিয়া বলেছিলেন, ‘তাদেরকে শাহাদাতের সম্মান দেওয়ার জন্য আমি সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাই।’

তার মতে, ‘শহিদদের রক্ত এবং আহতদের যন্ত্রণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিরা আশা তৈরি করে, ভবিষ্যৎ তৈরি করে, মানুষ ও জাতির জন্য স্বাধীনতা ও মুক্তি তৈরি করে।’

কাতারে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি এই নেতা আরও বলেছিলেন, ‘যদি ইসরায়েল মনে করে সন্তানদের লক্ষ্য করার মাধ্যমে এই মুহূর্তে হামাসের অবস্থান পরিবর্তন করা যাবে, তাহলে তারা ভ্রান্তিতে আছে। ফিলিস্তিনের সন্তানদের চেয়ে আমার সন্তানদের রক্তের মূল্য বেশি নয়। ফিলিস্তিনের সকল শহিদ আমার সন্তান।’

গাজায় আট মাসের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় হানিয়ার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম নয়। তার আরেক ছেলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এবং ভাই ও ভাতিজা গত বছরের অক্টোবরে প্রাণ হারান। এরপর নভেম্বরে তার এক নাতি নিহত হন।

এ বছরের শুরুর দিকে ইসরায়েলি পুলিশ হানিয়ার এক বোনকে গ্রেপ্তার করে, যিনি তেল শেভায় বসবাসরত ইসরায়েলি নাগরিক। হামাস নেতার তিন বোন দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরটিতে বাস করেন এবং আরব ইসরায়েলিদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার মধ্যে দুজন বর্তমানে বিধবা। ২০১৩ সালে মিশর হয়ে গাজায় অননুমোদিত সফরের জন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে ইসরায়েল। ২০১৫ সালে তাদের উভয়কেই আট মাসের স্থগিত সাজা দেওয়া হয়।

ওই বছরের শেষের দিকে হানিয়া ইসরায়েলকে অনুরোধ করেন, তার বোনদের গাজায় তার ছেলের বিয়েতে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। কিন্তু ইসরায়েল সেটা প্রত্যাখান করে।

টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, আজকের হামলায় হানিয়ার কোনো বোন নিহত হয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ হাজার ৬২৬ জনে পৌঁছেছে বলে সোমবার (২৪ জুন) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ভূখণ্ডটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরায়েল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে ৮ মাসের বেশি সময় ধরে নৃশংস আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে।

/ফিরোজ/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়