RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ১৪ ১৪২৭ ||  ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সংকট কাটিয়ে গতিশীল হচ্ছে ব্যাংকিং খাত: এমরানুল হক

মেসবাহ য়াযাদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৩৯, ১৯ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১১:০১, ১৯ নভেম্বর ২০২০
সংকট কাটিয়ে গতিশীল হচ্ছে ব্যাংকিং খাত: এমরানুল হক

এমরানুল হক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ঢাকা ব্যাংক

এমরানুল হক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতক এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (বাংলাদেশ) থেকে ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতকোত্তর (এমবিএ) ডিগ্রি নিয়ে ব্যাংকিং পেশায় কাজ শুরু করেন। বর্তমানে ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ঢাকা ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ বিজনেস অফিসার হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৮৬ সালে ব্যাংক অব ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ইন্টারন্যাশনাল (বিসিসিআই)-এর ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু। ১৯৯৮ সালে ঢাকা ব্যাংকে যোগ দেন। এর আগে ইস্টার্ণ ব্যাংক এবং ক্রেডিট আফ্রিকা ব্যাংক, জাম্বিয়ায় কাজ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, হংকং ও পাকিস্তানসহ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ট্রেনিংয়ে অংশ নেন। একজন 'সার্টিফায়েড করপোরেট ব্যাংকার' এবং আমেরিকান একাডেমি অব ফাইন্যান্স্যিয়াল ম্যানেজমেন্ট-এর ফেলো। এছাড়া তিনি ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) এর 'ব্যাংকিং টেকনিক অ্যান্ড প্র্যাকটিস' সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য। সম্প্রতি তিনি ব্যাংকিং খাত, পুঁজিবাজার, অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং করোনাকালীন সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন রাইজিংবিডির সঙ্গে। কথোপকথনে ছিলেন রাইজিংবিডির সিনিয়র প্রতিবেদক মেসবাহ য়াযাদ।

রাইজিংবিডি: দেশের ব্যাংকিং খাতের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাই।

এমরানুল হক: আমি মনে করি, দেশের ব্যাংকিং খাত এখন একটি কঠিন সময় পার করছে। চলমান কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব তো আছেই। আগামীতে অনিশ্চয়তা, সবকিছু মিলে এই মুহূর্তে যেকোনো ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০২০ সালের শুরু থেকেই বিশ্বব্যাপী দুর্যোগের অনেক বড় প্রভাব পড়েছে ব্যবসা খাত তথা সামগ্রিক অর্থনীতিতে। বিশেষ করে গত মার্চ থেকে শুরু করে আগস্ট পর্যন্ত সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক স্থবিরতার মধ্যে কেটেছে। ব্যাংকগুলোর আয়ের প্রবৃদ্ধির পথ একরকম রুদ্ধ ছিলো। নতুন বিনিয়োগ প্রায় বন্ধ হয়েছিলো। ব্যবসায়িক কার্যক্রম শ্লথ থাকায় নতুন আমানত সৃষ্টির সুযোগও ছিলো সীমিত। যার ফলে ব্যাংকিং খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধিও কমে গিয়েছিলো। বর্তমানে দেশের বস্ত্র শিল্পসহ অন্যান্য ব্যবসা খাত ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে বিধায় ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক কার্যক্রমও আবার ক্রমশ গতিশীল হচ্ছে। আশা করা যায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাংকিং খাত স্বাভাবিক রূপে ফিরে আসবে।

রাইজিংবিডি: করোনাকালীন শেয়ারবাজার, বিনিয়োগকারী এবং কোম্পানির আর্থিক ক্ষতি, বর্তমান অবস্থা- এ থেকে উত্তরণের পথ কী? 

এমরানুল হক: ২০২০ সালের শুরু থেকেই, বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি থেকে বৈশ্বিক দুর্যোগের প্রভাব পড়তে দেখা গেছে বিশ্বের বিভিন্ন স্টক মার্কেটে। তেমনিভাবে আমাদের স্টক মার্কেটও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে মোট বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ১২%। দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৪৩০ মিলিয়নে নেমে আসে জুনের প্রথম সপ্তাহে। বৈশ্বিক এরূপ যেকোনো দুর্যোগের সময় পুঁজিবাজারের গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করা খুবই কঠিন। এমতাবস্থায় এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্যে সংশ্লিষ্ট মহল, সর্বোপরি সরকারের সক্রিয় সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। নীতিমালা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কাঠামোগত সহায়তা ছাড়া বর্তমান অবস্থায় পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। সেক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি আরও প্রলম্বিত হবে। 

রাইজিংবিডি: পুঁজিবাজারে বুঝে না বুঝে যারা বিনিয়োগ করছেন, তাদের জন্য করণীয় কী? 

এমরানুল হক: আমি বলবো, যেকোনো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণা নেওয়া, প্রয়োজনীয় শিক্ষা নেওয়া জরুরি। অন্যথায়, অপরিপক্ক এবং অনভিজ্ঞ বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকেও লোকসানের পথে নিয়ে যাবে। আর অন্যদিক থেকে চিন্তা করতে গেলে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এক্ষেত্রে  বাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কাঠামো, পরিচালনার ধরণ ইত্যাদির পাশাপাশি বিভিন্ন  চলমান ঘটনা সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। আমি মনে করি, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের আগে প্রত্যেকেরই এই ক্ষেত্র সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিয়ে তারপর বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। 

রাইজিংবিডি: ঢাকা ব্যাংকের সার্বিক অবস্থা, গ্রাহকসেবার বর্তমান অবস্থা এবং গ্রাহক সন্তুষ্টির বিষয় নিয়ে আপনার অভিমত কী? 

এমরানুল হক: ঢাকা ব্যাংক বরাবরই নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যে থেকেই ব্যাংকিং ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এই বিষয়ে আমরা সবসময়ই আপসহীন। অনেক দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তও আমরা শক্ত অবস্থানে থেকে পেরিয়ে এসেছি। চলমান এই বৈশ্বিক দুর্যোগের প্রভাব আমাদের পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর পড়েছে। আমরাও এর ব্যতিক্রম নই। তবে, ভিত্তি মজবুত থাকার ফলে এখন পর্যন্ত আমরা সফলভাবেই এর মোকাবিলা করতে পেরেছি।  আশা করছি, সামনের দিনগুলোতে একইভাবে আমরা গ্রাহকদের সেবা দিতে পারবো। গ্রাহকসেবার মান আমাদের ঢাকা ব্যাংকের অন্যতম ভিত্তি, যা কিনা আমরা গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জন করেই নিশ্চিত করেছি।  এখনও করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও উন্নত সেবা নিশ্চিত করবো। 

রাইজিংবিডি:আগের মতো এখন আর ব্যাংকের চাকরির জন্য রিলেটেড বিষয়ে (বিজনেস, ম্যাথ, ইকোনমিক্স, ফিন্যান্স, অ্যাকাউন্টিং) না পড়েও কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর ভালোমন্দ দিক নিয়ে কিছু বলুন। পাশাপাশি অন্য বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে যারা এই পেশায় আসতে চায় তাদের জন্য আপনার পরামর্শ?

এমরানুল হক: দেখুন, আমাদের দেশে কিছু নির্দিষ্ট বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর তার সঙ্গে সম্পৃক্ত ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ থাকে না বললেই চলে। যে কারণে আজকাল অনেককেই দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিক এমনকি স্নাতক শেষ করে ব্যবসায় প্রশাসনে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণ করতে। ফলে তাদের পক্ষে যেকোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়া সহজ হয়। ব্যাংকে চাকরির জন্য বর্তমানে এমবিএ ডিগ্রিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। তাই অনেকেই এমবিএ শেষ করে ব্যাংকে চাকরি নেন। এতে দোষের কিছু নেই। যেহেতু আমাদের দেশেই সব বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সমানভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকে না, তাই এরূপ মিশ্রণ হওয়াটা স্বাভাবিক। এই মিশ্রণের ফলে বিভিন্ন কারিগরি দিক থেকে সরে গিয়ে শিক্ষার্থীরা ব্যবসায়িক শিক্ষার দিকে ঝুঁকছে। এতে করে ভবিষ্যতে আমাদের দেশের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত লোকের সংখ্যা কমে আসবে। আমি এইদিকে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। আর যারা ব্যাংকিং পেশায় আসতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে আমি এটুকু বলতে চাই, সফলতার কোনো শর্টকাট হয় না। যেকোনো পেশাতেই কেউ যাক না কেন, কাজের প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ এবং নিষ্ঠা থাকতে হবে। ব্যাংকিং পেশায় আমরা ব্যাংকাররা যেহেতু জনগণের অর্থ দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকি, তাই এ ক্ষেত্রে নিষ্ঠা এবং সতর্কতার মাত্রা অনেকাংশেই বেশি থাকতে হয়। 

রাইজিংবিডি: অনলাইন ব্যাংকিং (বিকাশ, শিওরক্যাশ, কিউক্যাশ, নগদ ইত্যাদি) এবং অর্থলগ্নীকারক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সঙ্গে জেনারেল ব্যাংকিং কার্যক্রম কী সাংঘর্ষিক বলে মনে করেন? 

এমরানুল হক: প্রথমত বিকাশ, শিওরক্যাশ, কিউক্যাশ, নগদ ইত্যাদি কোনটাই কিন্তু অনলাইন ব্যাংকিং নয়। এদের বলা হয়-'মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস'। কেউ কেউ মনে করেন এদের কার্যক্রম জেনারেল ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।  কিন্তু সামগ্রিক চিত্র বিবেচনায় নিলে, এই মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস জনপ্রিয় হওয়ার ফলে ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে অর্থ হস্তান্তর অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে। একইরকম সেবা কিন্তু বিভিন্ন ব্যাংকগুলোও নিয়ে আসছে তাদের গ্রাহকদের জন্য। অনেকক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোও কিন্তু এই সার্ভিসগুলোর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে তাদের গ্রাহকদের সেবা পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা নিতে। ধীরে ধীরে এই সার্ভিসগুলো বরং ব্যাংকিং কার্যক্রমের সহায়ক হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। অতএব এক কথায় এদের কার্যক্রমকে সাংঘর্ষিক বলার সুযোগ নেই। তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের উচিত ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেভাবে নীতিমালার আওতায় রাখা হয়, তেমনিভাবে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ যেন নির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করে। এতে করে সবার বৃহত্তর স্বার্থরক্ষা করা সম্ভব হবে।

রাইজিংবিডি:আমাদের দেশের জনসংখ্যা, অর্থনীতি, নাগরিকদের জীবনযাপনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গড়ে ওঠা বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা বেশি বলে মনে করেন কী? 

এমরানুল হক: বাংলাদেশের অর্থনীতির আকৃতি এবং সেই সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় আমি মনে করি আরও কমসংখ্যক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও চাহিদা পূরণ করা যেতে পারে। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতেও কিন্তু ব্যাংকের সংখ্যা তুলনামূলক কম। ব্যাংকের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় বেশি হয়ে গেলেও যদি গঠনমূলক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা যায় তাহলে উন্নত গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা যেতে পারে। কিন্তু যদি প্রতিযোগিতা অনৈতিক ধারায় প্রবাহিত হয়, তাহলেই বিপত্তি। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অযোগ্য ঋণগ্রহীতারা অধিক ঋণসেবা ভোগ করে এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করতে পারে না কিংবা গৃহীত ঋণের অর্থ অন্যখাতে ব্যয় করে। ফলে ব্যাংকিং খাতে খেলাপিঋণ বেড়ে যায় যা সবার জন্য ঝুঁকির ব্যাপার।

রাইজিংবিডি: কিছু কোম্পানি খুব সহজে ঋণ পাচ্ছে। এর মধ্যে কেউ কেউ সময়মত ঋণের টাকা ফেরত দিচ্ছেন না।ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপি হয়ে যাচ্ছেন। কারো কারো শাস্তি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু আটকে যাচ্ছে ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে ব্যক্তি ঋণ পাওয়া এবং তা আদায়ে ব্যাংকের কঠোর নীতি– এ বিষয়ে আপনার মতামত? 

এমরানুল হক: ব্যক্তি ঋণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ প্রকৃত অর্থেই দুটি ভিন্ন ব্যাপার। প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সর্বদাই কোনো না কোনো জামানত রেখে তারপরে ঋণ দেয়।  যার অধিকাংশই স্থাবর সম্পত্তি। তাছাড়াও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও আদায়যোগ্য আয়ের ওপর ব্যাংকের চার্জ থাকে। অন্যদিকে ব্যক্তি ঋণগুলোর বিপরীতে সাধারণত কোনো জামানতের ব্যবস্থা থাকে না। তাই তার ঝুঁকিও থাকে তুলনামূলক বেশি। যেহেতু ব্যাংক জনগণের অর্থে ব্যবসা করে, তাই এটুকু নিশ্চিত করতেই হয়- যেন প্রদত্ত ঋণ ঠিকমতো আদায় করা যায়। আর সেজন্য অধিক নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হয়। এ কারণেই হয়তো ব্যক্তি ঋণের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তুলনামূলক কঠোর মনে হতে পারে। 

রাইজিংবিডি:আপনি ঢাকা ব্যাংকের প্রথম হোমগ্রোউন ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পাশাপাশি প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বেও আছেন। বিগত ২৫ বছরের পথচলায় ঢাকা ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য অর্জন কী? আপনি এই ব্যাংককে কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান?

এমরানুল হক: ঢাকা ব্যাংকের সঙ্গে আমার যাত্রা শুরু ১৯৯৮ সালে। আমার যেমন অনেক স্মৃতি আছে, ঠিক তেমনি এই ব্যাংককে নিয়ে আমার স্বপ্নও অনেক। বিগত ২৫ বছরের পথচলায় ঢাকা ব্যাংক তার গ্রাহকদের জন্যে নিশ্চিত করেছে উন্নতমানের এবং সময়োপযোগী ব্যাংকিং সেবা। এই দীর্ঘ যাত্রায় ঢাকা ব্যাংক পেয়েছে বিভিন্ন পদক এবং পুরষ্কারে।  যার মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য হলো-'ব্যাংকার অব দ্য ইয়ার– ২০১৮'।  যা 'ব্যাংকিং খাতের অস্কার' নামে পরিচিত। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা কর্তৃক প্রাপ্ত অনেক পুরষ্কারও রয়েছে ঢাকা ব্যাংকের ঝুলিতে।

আমি ঢাকা ব্যাংককে দেশের সর্বোৎকৃষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চাই। এই ব্যাংকের মানবসম্পদের মান, ব্যবসায়ের পরিধি এবং গুণগত মান সবকিছুকেই আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করি এবং প্রয়োজনীয় মানোন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করি। গ্রাহকদের যেকোনো আর্থিক প্রয়োজনে তারা যেন আমাদের পাশে পান, সেই ব্যবস্থা আমি করতে চাই। ঢাকা ব্যাংক তার গ্রাহকদের একমাত্র পছন্দ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সেই লক্ষ্যে আমিসহ ঢাকা ব্যাংকের পরিবারের প্রত্যেক সদস্য নিরলস কাজ করে চলেছেন।

রাইজিংবিডি: অনেক ব্যস্ততার মাঝেও রাইজিংবিডিকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।  

এমরানুল হক: আপনাকেসহ রাইজিংবিডির সব পাঠকদের জন্য ধন্যবাদ আর ভালোবাসা। রাইজিংবিডির সাফল্য কামনা করছি। 

মেসবাহ/সাইফ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়