বাংলা একাডেমি পুরস্কারকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করি: নাসিমা আনিস
স্বরলিপি || রাইজিংবিডি.কম
নাসিমা আনিস এ বছর কথাসাহিত্যে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’ অর্জন করেছেন। এই কথাশিল্পী তার সৃষ্টিকর্মে মানুষকে বিজয়ী দেখতে চান। লিখে চলেন নারীর জীবনের পাওয়া না-পাওয়ার গল্প। তার কথাশিল্পভাবনাসহ নানা বিষয়ে রাইজিংবিডির সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন স্বরলিপি।
রাইজিংবিডি: আপনার কথাসাহিত্যে একদিকে যাপিত জীবনের ক্ষত উন্মোচিত হয়, অন্যদিকে সমাজের স্মৃতি বা মানস থেকে ক্রমে মুছে যাওয়া নারীর চরিত্র রূপায়ন করেন। শেষপর্যন্ত দেখা যায়, ঠকে যাওয়া চরিত্রগুলো ক্রমে জীবনমুখী হয়ে ওঠে। — আমি কি ঠিক বললাম?
নাসিমা আনিস: আপনি হয়তো ঠিকই বলেছেন। জীবন তো আসলে খুবই সংঘাতপূর্ণ, তার ওপর নারী তো ঊনমানুষ। অথচ তাকে সমস্ত দায় নিয়েই সমাজে চলতে হয়। ফলে জীবন যত তাকে চাপতে থাকে, নিউটনের নিয়ম মেনে সে ততই মাথা তুলে দাঁড়াতে চায়। একেবারে ডুবে যাওয়াকে ভবিতব্য হিসেবে সে মানে না।
হতে পারে আমি খুব ইতিবাচক মানুষ। হতে পারে নেতিকে আমি প্রশ্রয় দিতে অভ্যস্ত নই। আর খোলা চোখে দেখলে দেখবেন, মানসিকভাবে অসুস্থ না হলে কোনো মানুষই হাল ছাড়ে না। সে বাঁচে, সে বাঁচতে চায়—সমস্ত কিছুর বিনিময়ে হলেও।
রাইজিংবিডি: কথাসাহিত্য আপনার কাছে কী?
নাসিমা আনিস: কঠিন প্রশ্ন। কথাসাহিত্য আমার খুব প্রিয় বিষয়। আমার পাঠ ও লেখা আমার জীবনের অনেকটা জায়গাজুড়ে থাকে। আমার অভিজ্ঞতা, আবেগ, দর্শন—এসবের সঙ্গে জীবনের এক ধরনের বোঝাপড়াও হয় সাহিত্যের সান্নিধ্যে। আমি লিখতে লিখতে অনেক সত্যকে খুঁজে পাই, যদিও জানি নিরঙ্কুশ সত্য বলে কম জিনিসই আছে। কখনও সত্য নয়, কিন্তু সত্যের মতো লাগলে তাকেও বিস্ময় নিয়ে পড়ি বা লিখি। বস্তুত, বিশ্বাসযোগ্য সত্যের মতো, সত্য না হলেও—যত পুরোনো বা নতুন হোক, আকর্ষণীয়ভাবে বলতে পারাই আমার কাছে কথাসাহিত্য।
রাইজিংবিডি: সরাসরি আত্মজীবনী না লিখে আপনি লিখলেন আত্মজৈবনিক উপন্যাস ‘কলোনি’। উপন্যাসটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটানে লিখতে পেরেছেন, নাকি ভাঙা-গড়ার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে?
নাসিমা আনিস: একেবারে একটানে তো বিশাল কলেবরে লেখা হয় না! তদুপরি আমার পারিবারিক দুর্যোগ চলছিল। ফলে অনেক বেশি সময় খরচ হয়েছে এটি লিখতে। একেক সময় ওটা রেখে গল্পও লিখেছি। মনে হয়েছে ‘কলোনি’ আর শেষ হবে না।
রাইজিংবিডি: তরুণ কথাশিল্পীদের লেখা পড়া হয়? কাদের লেখা ভালো লাগে?
নাসিমা আনিস: তরুণদের লেখা পড়ি। তারা এই সময়ে এসে কীভাবে ভাবছে, তা জানাটা জরুরি। সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম, কিযি তাহ্নিন, আহমেদ খান হীরকের লেখা পড়ি। সাব্বির জাদিদ, মাসউদ আহমাদের লেখা পড়ি। আরও অনেকের লেখা পড়ি। নতুন যারা—মানে একেবারে নতুন লেখায় আসবে বা এসেছে—তারা যেন পড়াশোনাটা কখনও না ছাড়ে।
রাইজিংবিডি: চলতি বছর বইমেলা কেমন দেখলেন? এই মেলা কখন হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন?
নাসিমা আনিস: দেখুন, মেলা হয়েছে। এত রাজনৈতিক ডামাডোল, রমজান, নতুন সরকার—সবকিছু পেছনে ফেলে লেখক, পাঠক, প্রকাশক এবং দর্শক—সবাই মেলার মাঠে এসেছে। এটাকেই আমি ইতিবাচক মনে করেছি। সামনের আরও দুই বছর বইমেলা এমনই কাটবে হয়তো। এ বছর শেষ কয়েকদিন আমি দেখেছি, সত্যি যারা বই কেনেন তারাই মেলার মাঠে এসেছেন। দর্শনার্থী নেই বললেই চলে।
রাইজিংবিডি: বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্তির জন্য আপনাকে অভিনন্দন। এই প্রাপ্তিকে কীভাবে দেখছেন?
নাসিমা আনিস: আপনাকে ধন্যবাদ। পুরস্কার পেলে আনন্দ হয়। বাংলা একাডেমির এই পুরস্কারকে আমি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার বলে বিবেচনা করি। আমি খুবই আনন্দিত হয়েছি। আমার চেয়ে যোগ্য অগ্রজ কয়েকজন কথাসাহিত্যিক আছেন। তাদের কেউ এই পুরস্কার পেলেও আমার আনন্দ হতো।
ঢাকা/তারা//