RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২৫ নভেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১১ ১৪২৭ ||  ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

‘মিডিয়ার প্রেসারে হাসপাতাল ছেড়ে জেলে থাকতে হচ্ছে সম্রাটকে’

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫৯, ২০ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৭:৪২, ২০ অক্টোবর ২০২০
‘মিডিয়ার প্রেসারে হাসপাতাল ছেড়ে জেলে থাকতে হচ্ছে সম্রাটকে’

আদালতে নেওয়ার পথে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট (ফাইল ফটো)

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের আইনজীবীরা বলেছেন, ‘অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও মিডিয়ার প্রেসারের কারণে সম্রাটকে হাসপাতাল ছেড়ে কারাগারে থাকতে হচ্ছে।’

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে অস্ত্র ও মাদকের মামলায় সম্রাটের জামিন শুনানিতে এ কথা বলেন তারা।

আজ সম্রাটের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা অস্ত্র ও মাদকের মামলায় চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। মাদক মামলায় সম্রাটের পাশাপাশি তার সহযোগী ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানও আসামি। দুই মামলায় চার্জ শুনানির তারিখ আগামী ৩০ নভেম্বর ধার্য করেছেন আদালত।

মামলা দুটিতে চার্জশিট গ্রহণের তারিখ ধার্য ছিল আজ। এজন্য সকাল ১০টার দিকে সম্রাটকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

এদিকে, সম্রাটকে আদালতে হাজির করার খবরে সকাল থেকেই তার সমর্থকরা আদালত পাড়ায় ভিড় জমান। তারা সম্রাটের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে সম্রাটকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের দ্বিতীয় তলার এজলাসে নেওয়া হয়। এ সময় তার সমর্থকরা স্লোগান দিতে দিতে ওপরে ওঠেন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারক। তিনি স্লোগান বন্ধ করার জন্য সম্রাটের আইনজীবীদের বলেন। আইনজীবীরা সম্রাটের সমর্থকদের বুঝিয়ে স্লোগান বন্ধ করান। ১১টা ৪০ মিনিটে সম্রাটের দুই মামলায় শুনানি শুরু হয়। শুনানি শুরুর আগে সাধারণ আইনজীবীদের বের করে দেন বিচারক। সম্রাটের ওকালতনামায় যেসব আইনজীবীর স্বাক্ষর নেই তাদেরও বেরিয়ে যেতে বলেন বিচারক। এ নিয়ে বিচারকের সঙ্গে সম্রাটের আইনজীবীদের বাকবিতণ্ডা হয়। আইনজীবীরা বলেন, ‘অনেক সিনিয়র আইনজীবীর স্বাক্ষর ওকালতনামায় থাকে না। তারা এসে শুনানি করেন।’ পরে আস্তে আস্তে পরিবেশ শান্ত হয়।

সম্রাটের পক্ষে গাজী জিল্লুর রহমান, আফরোজা শাহানাজ পারভীন (হীরা), মাহবুবুল আলম দুলাল শুনানি করেন। শুনানিতে তারা বলেন, ‘সম্রাট জনপ্রিয় নেতা। তাকে ভিকটিমাইজ করার জন্য যা যা করার দরকার, তা করা হয়েছে। নেতাকর্মীরা তাকে ভালোবাসে। এজন্যই শত শত নেতাকর্মী আজ আদালতে ছুটে এসেছে তাকে দেখতে, তার মুক্তির দাবি নিয়ে।’

তারা আরও বলেন, ‘১৯৯৯ সালে সম্রাটের হৃৎপিণ্ডের ভাল্ব রিপ্লেস করা হয়। নিয়মিত চেকআপের জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হয়। দেশে এ রোগের প্রোপার ট্রিটমেন্ট নেই। জামিন পেলে তিনি ট্রিটমেন্টের জন‌্য বিদেশে যাবেন।’

আইনজীবীরা দাবি করেন, সম্রাটের বিরুদ্ধে করা অস্ত্র ও মাদক মামলার ভিত্তি দুর্বল। অফিসে হরিণের চামড়া রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৬ মাসের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। সম্রাট অসুস্থ। আমরা তার জামিন চাই। তিনি এক বছরের বেশি সময় ধরে জেলে। অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মিডিয়ার প্রেসারের কারণে অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তাকে হাসপাতাল ছেড়ে জেলে থাকতে হচ্ছে। তাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়ছে। তাকে জবাই করা হয়েছে। তাকে বাঁচতে দিন। বেঁচে থাকলে বিচার হবে।’

আরমানের পক্ষে শুনানি করেন সাইফুল ইসলাম সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল জামিনের বিরোধিতা করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন বলে জানিয়েছেন তাপস কুমার পাল।

ঢাকা/মামুন/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়