ঢাকা, শনিবার, ২৭ চৈত্র ১৪২৬, ১১ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

২৪ বছরে সাত তদন্ত কর্মকর্তা, সবাই বলেছিল আত্মহত্যা

আহমদ নূর : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২৫ ১:০০:৩২ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২৫ ১১:৪২:১৬ এএম

বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছিল নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন এ বিষয় স্পষ্ট হতে ২৪ বছর সময় লাগল। এর মধ্যে সাতবার তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন করা হয়েছিল। তবে সবাই সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন। 

তবে এতকিছুর মধ্যে সালামান শাহ’র এক ভক্তের হত্যার দায় স্বীকার নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও ওই ভক্ত পরে আদালতে জানায় পুলিশি নির্যাতনে সে দায় স্বীকার করেছিল।

সোমবার রাজধানীর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ সকাল ৭টা থেকে ১০টার মধ্যে তার ড্রেসিং রুমে আত্মহত্যা করেন। পরে সেখান থেকে তার দেহ বেড রুমে আনা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী রমনা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অপমৃত্যু মামলা হয়। মামলার তদন্তকর্মকর্তা এসআই মাহবুবুর রহমান মৃতদেহের সুরতহাল তৈরি করেন এবং মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, ‘মৃত্যু ফাঁসের দড়িতে ঝুঁলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে সম্পন্ন হয়েছে; যা মৃত্যুপূর্ব ও আত্মহত্যা জনিত (সুইসাইড ইন নেচার)।’

পরে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত ডিবিতে দেওয়া হয়। তৎকালীন ডিবির সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবির তদন্তভার গ্রহণ করেন ও সব আলামত জব্দ করেন। তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ‘আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু’ উল্লেখ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

বাদীর না-রাজি আবেদনের প্রেক্ষিতে পরে ডিবির সহকারী কমিশনার মজিবুর রহমান মামলার পুনঃতদন্তভার গ্রহণ করেন। তার তদন্তের সময় রেজভী আহমেদ নামে এক যুবক সালমানের বাবার বাসায় গিয়ে ‘লেলিন’- পরিচয় দিলে তার বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানায়ি একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানে ১৬৪ ধারায় সে সালমানকে হত্যা করেছে বলে জবানবন্দি দেয়। পরে সিআইডি সিটি জোনের সহকারী পুলিশ সুপার খালেক-উজ-জামান অপমৃত্যু মামলা ও হত্যা মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। তদন্তকালে একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে জিজ্ঞাসাবাদে সালমানের মৃত্যুর বিষয়ে জানে বলে জানায় এবং প্রিয় নায়কের কাপড় সংগ্রহ করার জন্য ওই বাসায় যায় বলে দাবি করে।

আদালতে আগের জবানবন্দির বিষয়ে রিজভী দাবি করেন, ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের নির্যাতনে সে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে।  ১৯৯৭ সালের ২ নভেম্বর সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন মর্মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন খালেক-উজ-জামান।  এ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বাদী না-রাজি আবেদন করলে আদালত না-মঞ্জুর করেন।  না-মঞ্জুরির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আদেন করলে ১৯৯৯ সালের ২৯ জুলাই বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দেন আদালত।

২০১৪ সালের ৯ জুলাই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করে বলেন বাদীর অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরীর স্ত্রী নিলুফার চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্তের বিরুদ্ধে না-রাজি দিলে মামলাটি র‍্যাবকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষ বাদীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি রিভিশন মামলা করলে র‍্যাবের কাছ থেকে মামলার দায়িত্ব সরিয়ে দেওয়া হয় এবং মামলাটি তদন্ত করার জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০১৬ সালে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। তিনজনের সমন্বয়ে গঠিত একটি তদন্ত টিম সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে। আজ মঙ্গলবার আদালতে এ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।


ঢাকা/নূর/নাসিম