Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ১ ১৪২৮ ||  ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

যমুনায় হচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু’

কেএমএ হাসনাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:১৯, ৭ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
যমুনায় হচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু’

প্রতীকী ছবি

যমুনা নদীর উপর নির্মাণ হচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু’। এটি বর্তমান সরকারের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আর একটি নতুন মাইলফলক হবে।

দুটি প্যাকেজে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১২ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। প্রকল্পে জাইকা আর্থিক সহায়তা দেবে। প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

যমুনা নদীর উপর বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু বাংলাদেশের একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সেতু। যা, দেশের পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলকে সংযুক্ত করেছে। সেতুটি আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। ভারত, মিয়ানার, ভূটান ও নেপালসহ উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগের কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশ।

এছাড়া সেতুটি ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ লিংক। বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুতে চার লেনের মহাসড়কসহ সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ রেলপথ রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে সড়ক ও রেলপথে ট্র্যাফিকের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যমান সেতুটির ধারণক্ষমতা পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।

এ কারণে সরকার কর্তৃক বর্ধিত জাতীয় ও আঞ্চলিক ট্র্যাফিক চাহিদা পূরণে বিদ্যমান সেতুটির সমান্তরালে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন বিশিষ্ট একটি ডেডিকেটেড রেল সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি ‘একনেক’ কর্তৃক অনুমোদিত হয়।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদকাল ২০১৬ সালের ১ জুলাই শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর নির্ধারণ রয়েছে। প্রকল্পটি পৃথক দুটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হবে। এরমধ্যে একটি ডব্লিউডি-১ পাকেজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্প পূর্বাঞ্চলের সিভিল ওয়ার্ক এবং প্যাকেজ ডব্লিউডি-২ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ পশ্চিমাঞ্চলের সিভিল ওয়ার্ক।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের অক্টোবরে দেশের একটি ইংরেজি এবং একটি বাংলা দৈনিকে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। মোট ২৩টি দরপত্র বিক্রি হয়। দরপত্র গ্রহণের সময়টি ছিল ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। ওইদিনই দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের টেকনিক্যাল বিড এবং পরে ১৯ জুন ফিন্যান্সিয়াল বিড যাচাই করা হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে দুটি প্যাকেজের প্রতিটিতে তিনটি করে দরপত্র বাছাই করা হয়।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক টেকনিক্যাল বিড মূল্যায়নে ডব্লিউডি-১ ও ডব্লিউডি-২ পাকেজে অংশগ্রহণকারী তিনটি জয়েন্টভেঞ্চার কোম্পানির (ওটিজে জয়েন্টভেঞ্চার, টেকেন-ওয়াইবিসি জয়েন্টভেঞ্চার এবং আইএলআই-এসএমসিসি জয়েন্টভেঞ্চর) টেকনিক্যাল বিড কারিগরিভাবে রেসপন্সিভ হয়।

জাইকার অর্থায়ন সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে বিধায় টিইসি কর্তৃক সম্পাদিত কারিগরি মূল্যায়নের উপর জাইকার ‘নো অবজেকশন’ গ্রহণ করে রেসপন্সিভ দরদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রাইস বিড তাদের মনোনীত প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ২০১৯ সালের ১৯ জুন তারিখে অনুষ্ঠিত টিইসি বৈঠকে খোলা হয় এবং প্রাইস বিড ওপেনিং শীট প্রস্তুত করা হয়।

এতে জাপান ভিত্তিক দুই প্রতিষ্ঠান ডব্লিউডি-১ ওটিজে জয়েন্টভেঞ্চার এবং ডব্লিউডি-২ প্যাকেজে আইএইচআই এসএমসিসি জয়েন্টভেঞ্চার সর্ব নিম্ন দরদাতা হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

এ সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাব আগামী বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

 

ঢাকা/হাসনাত/সনি

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ